
শাহরাস্তিতে ১৮১ মুক্তিযোদ্ধার ভাতা ও গেজেট প্রকাশের দাবী


শাহরাস্তি উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ও গেজেটে নাম না উঠায় শহীদ মিনারে অবস্থান করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন ১৮১ জিন মুক্তিযোদ্ধা। দীর্ঘদিন ধরে গেজেট ও ভাতার বিষয়টি নানান জটিলতায় ঝুলে থাকা ১৮১ জন মুক্তিযোদ্ধা দুঃখে-কষ্টে পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবন যাপন করছেন।
সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে সাক্ষাত করতে গিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মুক্তিযোদ্ধারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ।
সুবিধা ও ভাতা বঞ্চিত মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়া তথ্যমতে, উপজেলায় ভাতা স্থগিত ৩৪ জন, সনদধারী ১৯ জন ও অনলাইনে আবেদনকারী ১শ’ ২৮ জনসহ ১শ’ ৮১ জন মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। ২০১৫ সালের জুলাই মাস থেকে ৩৪ জনের ভাতা স্থগিত রয়েছে। ২০১৭ সালে উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটি কর্তৃক ১ শ’ ৮১ জনের তালিকা মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর পাঠানো হয়। পুনরায় ২০২১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভাতা স্থগিত ও সনদধারি ৫৩ জনের তালিকা মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়।


মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি, ২০১৯ সালের ১৮ এপ্রিল উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটির প্রতিবেদন পুনরায় যাচাই করে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে পাঠানোর জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়। কিন্তু সে প্রতিবেদন পাঠাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিলম্ব করায় তাঁরা গেজেটভূক্ত হতে পারছেন না। ইতোমধ্যে কয়েকজন মারা যান। অনেকেই মৃত্যুশয্যায়।
যারা বেঁচে আছেন, তাদের পরিবার পরিজন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। গেজেটে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধা হয়েও তাঁরা সমাজে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছেন বলে জানান।
কুলশী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবুল হাশেম দৃষ্টিহীনতায় ভুগছেন। তিনি জানান, ভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করতে হয়। তালিকা জামুকা’তে পাঠানো হচ্ছেনা। সেটা কেন? কি জন্য? আমাদের কি অপরাধ? সেটার প্রতিকার চাই।
উঘারিয়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা একেএম ফজলুল হক জানান, সঠিক মুক্তিযোদ্ধা হয়েও কেন অবহেলিত সে বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
রায়শ্রী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মমতাজউদ্দিন জানান, ভাতা বন্ধ এ কথা লজ্জায় কাউকে বলতে পারছি না। বিষয়টি নিজের স্ত্রী-সন্তানদের কাছে পর্যন্ত লুকাতে হচ্ছে। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি লজ্জিত ও বিব্রত।
এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা উপজেলা কমান্ডার মোহাম্মদ শাহজাহান বলছেন, বিভিন্ন জটিলতায় এই মুক্তিযুদ্ধারা ভাতা ও সুযোগ সুবিধা বঞ্চিত রয়েছে। ঝুলে থাকা বিষয়টি নিষ্পত্তি হলে পরিবারগুলো উপকৃত হবে।


























