
চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখীর হানা


কয়েকদিন ধরে চলছিল তীব্র দাবদাহ। এতে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল জনজীবন। বিশেষ করে রোজাদাররা ছিলেন নিদারুণ কষ্টে।
অবস্থা এমন ছিল যে, ঘরের ভেতরে ফ্যানের বাতাসও ছিল উষ্ণ। এমন পরিস্থিতিতে বুধবার প্রত্যুষে কালবৈশাখীর ডানায় চেপে আসে স্বস্তির বৃষ্টি। তবে ঝড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি এবং প্রাণহানিও হয়েছে। বরিশাল, বগুড়া, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও লক্ষ্মীপুরে গাছ ভেঙে ও ঘর চাপা পড়ে ছয়জন মারা গেছেন।
চট্টগ্রাম : ফটিকছড়ি উপজেলায় গাছ ভেঙে পড়ে রিনা আকতার (৪০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। সকালে উপজেলার উত্তর কাঞ্চননগর ঝরঝরি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রিনা আকতার ওই এলাকার শাহ আলমের স্ত্রী। ঝরঝরি এলাকার ইউপি সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক জানান, ঝড় শুরু হলে গরু নিরাপদ স্থানে বাঁধতে যান রিনা আকতার। এমন সময় গাছ ভেঙে পড়ে তার ওপর। তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া ঝড়ে চট্টগ্রাম বন্দরের একটি বাল্কহেড ডুবে গেছে কর্ণফুলীতে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক যুগান্তরকে বলেন, সকাল সাড়ে ১০টায় বন্দরের চার্লি অ্যাংকারেজে একটি বাল্কহেড ডুবে গেছে। সেখানে পাঁচজন মাঝিমাল্লা ছিলেন। তাদের উদ্ধার করা হয়েছে।


মুরাদনগর (কুমিল্লা) : মুরাদনগরে ঝড়ে গাছ ভেঙে সিএনজি চালিত অটোরিকশার ওপর পড়লে মিশু মিয়া (৬০) নামে এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন শিশুসহ আরও ৫ জন। বুধবার সকালে উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার সলফা গ্রামের রামচন্দ্রপুর-শ্রীকাইল সড়কে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু মিয়া উপজেলার পূবধইর-পূর্ব ইউনিয়নের খোশঘর গ্রামের মৃত. নায়েব আলীর ছেলে। আহতদের মধ্যে শিশু হোসাইনকে মুমূর্ষু অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) : রায়পুরে গাছের চাপা পড়ে রুহুল আমিন (৬২) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার কেরোয়া ইউনিয়নের মধ্য কেরোয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তিনি ওই গ্রামের মাঝি বাড়ির মৃত শফি উল্লাহর ছেলে। তার ছেলে বিল্লাল হোসেন জানান, সকাল আটটার দিকে রুহুল আমিন বাড়ি থেকে বের হয়ে পাশের দোকানে যান। ঝড়ো হাওয়া শুরু হলে তিনি বাড়ি ফিরে আসছিলেন। এ সময় একটি নারিকেল গাছ ভেঙে তার ওপর পড়ে। এতে তার মৃত্যু হয়েছে।
E/N



























