
কচুয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশ শিল্পের পন্য, ভালো নেই কারিগররা


চাঁদপুরের কচুয়ায় বাঁশ আর বেতকেই জীবিকার প্রধান বাহক হিসাবে আঁকড়ে রেখেছে উপজেলার গুটি কয়েক মানুষ। এই বাঁশ আর বেতই বর্তমানে তাদের জীবিকার প্রধান বাহক। কিন্তু দিন দিন বাঁশ আর বেতের তৈরি বিভিন্ন পন্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় ভালো নেই এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত গুটি নকয়েক কারিগররা। তবুও বাপ-দাদার এই পেশাকে এখনও ধরে রেখেছে কিছু সংখ্যক পরিবার।
বর্তমানে করোনা ভাইরাসে সংক্রমন কারনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসব বাশঁ শিল্প আনা সম্ভব হচ্ছে না। এতে করে নিপুন কারিগররা কর্মহীন হয়ে পরছে। উপজেলায় মোট ১৮টি বাঁশ শিল্পের ব্যবসায় রয়েছে। বর্তমানে কচুয়া বাজার,রহিমানগর, তেগুরিয়া, পালাখালে বেশ কয়েকটিতে কারিগররা কাজ করলেও অন্য স্থানে তেমন লক্ষ্য করা যায়না। হারিয়ে যেতে বসেছে এ শিল্প।
অভাবের তাড়নায় এই শিল্পের কারিগররা দীর্ঘদিনের বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে আজ অনেকে অন্য পেশার দিকে ছুটছে। শত অভাব অনটনের মাঝেও উপজেলায় হাতে গোনা কয়েকটি পরিবার আজও পৈতৃক এই পেশাটি ধরে রেখেছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় যে, বর্তমানে উপজেলার পালাখাল ওবায়েদুল সিলিং হাউজের পরিচালক ওবায়েদুল হোসেন ও কারিগররা জানান, বর্তমানে বাঁশ শিল্প বিলুপ্তির পথে।


এ কাজের পাশাপাশি সংসারের কাজ শেষ করে নারী কারিগররাই বাঁশ দিয়ে বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করে থাকেন। বর্তমানে করোনা ভাইরাসের কারনে তাদের জীবন জীবিকা দুর্বিষহ কাটছে।
তারা আরো জানান, জীবিকা নির্বাহের তাগিদে আজ অনেক পরিবারই বাপ-দাদার এই পেশা ছেড়ে অন্য পেশার দিকে ঝুঁকছেন। বর্তমানে আধুনিতার যুগে বাজারে সহজলভ্য ও আর্কষনীয় বিভিন্ন প্লাস্টিক পণ্য ও আন্যান্য দ্রব্য মূল্যের সাথে পাল্লা দিতে না পারায় এই শিল্পের অনেক কারিগররা তাদের বাপ-দাদার পেশা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এসব বাঁশ শিল্পের কারিগররা তাদের পূর্ব পুরুষের এ পেশা আকঁড়ে ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেও হিমশিম খাচ্ছেন। দিন দিন বিভিন্ন জিনিসপত্রের মূল্য যে ভাবে বাড়ছে তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে না এই শিল্পের তৈরি বিভিন্ন পণ্যের মূল্য যার কারণে কারিগররা জীবন সংসারে টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছেন।
তবে কালের আর্বতনের সাথে সাথে বিশেষ বাঁশ শিল্প আর চোখে পড়ে না । একদিকে করোনা ভাইরাস সংক্রমন ও অপরদিকে অপ্রতুল ব্যবহার আর বাঁশের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে বাঁশ শিল্প আজ হুমকির মুখে।
কারিড়র ডালিমুর রহমান ও দেলোয়ার জানান যে, খেয়ে-না খেয়ে অতি কষ্টে তাদের বাপ-দাদার ঐতিহ্যবাহী এই বাঁশ শিল্প টিকে রাখতে ধার দেনা ও বিভিন্ন সমিতি থেকে বেশি লাভ দিয়ে টাকা নিয়ে কোন রকম বাপ-দাদার এই পেশাকে আকঁড়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। তাই করোনা ভাইরাসের কারনে এক দিকে যেমন পন্য আমদানি করতে পারছে না অপর দিকে সামগ্রিক ভাবে কোনো অর্ডার পাচ্ছে না। এতে করে কারিগররা নিজেদের জীবন জীবিকা পালনে হিমসিম খাচ্ছে। তাই সরকারি -বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তাদের এসব বাশঁ শিল্প ঠিকে থাকা সম্ভব বলেও জানান তারা।
E/N




























