আজ হাজীগঞ্জ ও চাঁদপুর মুক্ত দিবস

Default User
পপুলার বিডিনিউজ ডেস্ক
আপডেটঃ ডিসেম্বর ৮, ২০২১ | ১০:১২
Link Copied Successfully!

আজ ৮ ডিসেম্বর চাঁদপুর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এ দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্তি পেয়েছিল চাঁদপুর জেলা। এই দিনে চাঁদপুর থানার সন্মুখে বিএলএফ বাহিনীর প্রধান মরহুম রবিউল আউয়াল কিরণ চাঁদপুরে প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা তোলেন।

১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল দখলদার বাহিনীর ২টি সেভারজেট বিমান থেকে সারা চাঁদপুর শহরে এলোপাথারি বোমা বর্ষণ করা হয়। আর এর মাধ্যমে প্রথম আক্রমণের সূচনা করা হয় এ জেলায়। ওই দিন সেলিং- বুলেটে পুরানবাজার ও বড় স্টেশন এলাকায় এক নারীসহ দুইজন নিহত হন।

৮ এপ্রিল বিকালে প্রায় পাকিস্তানি হানাদারের সদস্যরা বিশাল গাড়ির বহর নিয়ে কুমিল্লা সেনানিবাস থেকে চাঁদপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে। পথে মুদাফফরগঞ্জ ও হাজীগঞ্জে মুক্তিবাহিনীর আক্রমণের মুখে পড়ে। আক্রমণ এড়াতে বাধ্য হয়ে দ্রুত চাঁদপুর শহরের অদূরে সরকারি কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয়ে এসে আশ্রয় নেয় সেনারা। আর সেনা কর্মকর্তারা ওয়াপদা রেস্ট হাউজ এবং জেলা পরিষদের ডাকবাংলোয় অবস্থান নেয়।

বিজ্ঞাপন

প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে নেওয়ার পর পাকিস্তানি বাহিনী অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি নিতে সমর্থ হয়। চালু হয়ে যায় নির্যাতনের স্টিম রোলার। চাঁদপুরের বড়স্টেশন, টেকনিক্যাল স্কুল,ওয়াপদা রেস্ট হাউজ, পুরানবাজার পুলিশ ফাঁড়ি ইত্যাদি ৮টি স্থানে তারা নির্যাতন চালানোর জন্য বিশেষ টর্চারসেল তৈরি করে। শহর ও আশেপাশের এলাকাসহ ট্রেন, লঞ্চ, স্টীমার এবং নৌপথে যারা আসা যাওয়া করেছে, কারও ওপর সন্দেহ হলে ধরে এসব টর্চারসেলে নিয়ে এসে নির্যাতন, ধর্ষণ শেষে হত্যা করার পর মেঘনা ও পদ্মা নদী ফেলে দিতে থাকে লাশ।

মুক্তিযোদ্ধাদের এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, পাক বাহিনী চাঁদপুরের ৮টি টর্চারসেলে ১৫ হাজারের বেশি লোককে হত্যা করেছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

ধীরে ধীরে মুক্তিবাহিনী আবার শক্তিশালী আক্রমণে ফিরে আসে। এরই ধারাবাহিকতায় অবশেষে একাত্তরের ৭ ডিসেম্বর জেলার চিতোষী, হাজীগঞ্জ, মুদাফরগঞ্জ, বাবুরহাট, ফরিদগঞ্জ এলাকায় মুক্তিবাহিনী ও মিত্র বাহিনীর তীব্র আক্রমণের মুখে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আর দাঁড়াতে পারেনি। গভীর রাতে ২টি জাহাজে চেপে নৌপথে পালিয়ে যেতে থাকে তারা।

বিজ্ঞাপন

৮ ডিসেম্বর সকালের দিকে মিত্রবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধারা ট্যাঙ্ক নিয়ে চাঁদপুর প্রবেশ করে পাক বাহিনীর পালিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে বোমা মেরে প্রায় ৫শ’ পাকিস্তানি সেনাবাহনকারী এমভি লোরাম নদীতে ডুবিয়ে দেয়। পুরোপুরি পাকিস্তানি হানাদারমুক্ত হয় মুক্ত হয় চাঁদপুর।

দীর্ঘ ৮ মাসে চাঁদপুরে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের স্মরণে চাঁদপুরে নির্মিত হয়েছে বেশ কিছু স্মৃতিসৌধ। স্মৃতিসৌধগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো শহরে লেকের ওপর দৃশ্যত ভাসমান স্মৃতিস্তম্ভ ‘অঙ্গীকার’ ও চাঁদপুরের প্রথম ৪ শহীদের স্মরণে ‘মুক্তিসৌধ’, শহরের ৫ রাস্তার মোড়ে সকল শহীদদের স্মরণে ‘শপথ ফোয়ারা’, চাঁদপুর বড় স্টেশনের বধ্যভূমিতে ‘রক্তধারা’।

ট্যাগ:

শীর্ষ সংবাদ:
৪০–৫০ বছর পর ওয়ারিশি সম্পত্তির দাবি, মামলা চলাকালেই ভবন নির্মাণের অভিযোগ আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় নিহত ২২ জন কিউআর কোডে লেনদেনে কোনো ফি লাগবে না: অর্থমন্ত্রী চাঁদপুরে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত ঢাকা মহানগর উত্তরের বিএনপিসহ তিন কমিটি বিলুপ্ত, বহিষ্কার ১৪ নেতা ফরিদগঞ্জে মুহাদ্দিস মাও. মো. মোশাররফ হোসাইন জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত চাঁদপুরে কারেন্ট জালের বিরুদ্ধে অভিযান, ১১ জনের কারাদণ্ড পুলিশ পরিচয়ে চালককে ফ্ল্যাটে আটকে টাকা আদায়ের অভিযোগ, আটক ৪ নারী কচুয়ায় ২৪ পিস ইয়াবাসহ ৪ মাদক কারবারি আটক জুলাই গণহত্যার দুই মামলায় আসামি পটুয়াখালী নদীবন্দরের কর্মকর্তা, জানে না কর্তৃপক্ষ মতলব উত্তরে ৩০ প্রান্তিক পেশাজীবীকে প্রশিক্ষণ ও অনুদানের চেক প্রদান কচুয়ায় মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব মতলব পৌরসভায় রাস্তা নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন ইউএনও ২৮ হাজার টাকার শাড়ি প্রতারণার মামলায় জামিন পেলেন তানজিন তিশা চাঁদপুরে রাতে ঘুরাঘুরি করায় ৪৯ কিশোর আটক কুয়েত প্রবাসী খোকন পাটওয়ারীর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন মিয়ানমারের রাখাইনে বিমান হামলা, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫০ জাতীয় পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচনে তৃতীয় চাঁদপুরের হোসনে আরা মতলব পৌরসভার সমন্বয় কমিটির (টিএলসিসি) সভা