
চাঁদপুর সদরের ৯ ইউপি নির্বাচনের প্রার্থী ও ভোটারের হিসাব-নিকাশ


চাঁদপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তোফায়েল হোসেন জানান, সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনা করার জন্য আমাদের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য ব্যালট পেপার, ব্যালটবক্সসহ নির্বাচনী সকল প্রকার সরঞ্জামাদি পৌঁছে গেছে। নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১০৫ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৫৭১ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ১১৪২ জন পুলিং অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসকল অফিসারদের নির্বাচন পরিচালনায় প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।


এদিকে গত ২ নভেম্বর চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সকল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মেম্বার এবং সংরক্ষিত আসনের নারী মেম্বার প্রার্থীদের নিয়ে আচরণবিধি লংঘন শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, একটি অবাদ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার জন্যে আমাদের সকল প্রকার প্রস্তুতি রয়েছে। নির্বাচর যেন সুষ্ঠ হয় তার জন্যে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছি। সরকারের পক্ষ থেকে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আমাদের উপর কোন চাপ নেই। বরং সুষ্ঠু ভাবে করতে বলা হয়েছে। এই নির্বাচনে পর্যাপ্ত আনসার, বেজেবি, র্যাব, পুলিশ নিয়োগ করবো। জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট হিসেবে আমার কাজ হলো নির্বাচন স্বচ্চতা করা। আমি কারো নাম, দল দেখবো না। মার্কাও দেখবো না। আচড়ণবিধি লঙ্ঘন হলে যতটা কঠোর হওয়ার, আমরা ততটা কঠোর হবো।
এদিকে এ নির্বাচনকে ঘিরে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। গত ২৭অক্টোবর প্রতীক পাওয়ার পর থেকেই ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ব্যস্ত সময় পার করেন তারা। ভোটের মাঠে জয়ী হতে ভোটারদেন নানান প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। হাটে-ঘাটে, চা স্টলে চলছে নির্বাচনী আলাপ-আলোচনা। চেয়ারম্যান প্রার্থীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্যরাও ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে ভোট প্রার্থনা করছেন। তবে সাধারণ ভোটাররা জানান, ‘বিগত দিনে যারা এলাকায় উন্নয়ন করেছে এবং সুখে-দুঃখে যারা তাদের পাশে ছিল, তাদের তারা ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন। সব মিলিয়ে ৯টি ইউনিয়নে প্রচার-প্রচারণায় অনেকটাই জমে উঠেছে।
এদিকে দেশের আরেকটি বড় রাজনীতিক দল বিএনপি এবছরও ইউপি নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় তাদের শীবিরে নির্বাচন নিয়ে খুব একটা উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা যায়নি। যদিও চাঁদপুর সদরের ৯টি ইউনিয়নের বেশ ক’টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দলটির পদ পদবী ধারী অনেকেই অংশ নিয়েছেন।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর সদরের ৯ইনিয়নে মোট প্রার্থী ৩৭৬ জন প্রার্থী প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। এরমধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৩১জন, সাধারণ সদস্য পদে ২৭৫ জন ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ৭০ জন।
চাঁদপুরে ১০ ইউনিয়নের ভোটার ১ লাখ ৯৩ হাজার ৪শ’ ৯৯জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ১হাজার ৮৪ জন এবং মহিলা ভোটার সংখ্যা ৯২ হাজার ৪শ’ ৫১ জন।
১০টি ইউনিয়নের মধ্যে ১নং বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন থেকে মোট ৩৪ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে রয়েছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৩ জন। তারা হলেনঃ (নৌকা) প্রতিকে বর্তমান চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন খান শামীম, (হাতপাখা) প্রতিক অজিউল্লাহ সরকার, স্বতন্ত্র খোরশেদ আলম (আনারস) প্রতীক পেয়েছেন। সাধারণ সদস্য ২৫ জন ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৬ জনের মাঝে প্রতিক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে সংরক্ষিত সদস্য (৪,৫ ৬) রহিমা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
২নং আশিকাটি ইউনিয়ন থেকে মোট ৪৪ জন প্রার্থীর প্রার্থী ভোটের মাঠে রয়েছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৩ জন। তারা হলেনঃ (নৌকা) প্রতিকে বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন পাটওয়ারী, (হাতপাখা) প্রতীক মো. মাসুদ গাজী, স্বতন্ত্র দেলওয়ার হোসেন খান (চশমা) প্রতিক পেয়েছেন। সাধারণ সদস্য ৩৬ জন ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ৫ জনের মাঝে প্রতিক বরাদ্দ দেয়া হয়। এদের মধ্যে সংরক্ষিত সদস্য (৭,৮,৯) পদে একাধিক প্রার্থী না থাকায় আয়শা বেগম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন থেকে মোট ৫১ জন প্রার্থী প্রার্থী ভোটের মাঠে রয়েছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৪জন। তারা হলেনঃ (নৌকা) প্রতিক মাসুদুর রহমান নান্টু, (হাতপাখা) প্রতীক মো. শাহ জামাল গাজী, স্বতন্ত্র মোঃ রফিকুল ইসলাম ( আনারস) প্রতিক, স্বপন মাহমুদ ( টেলিফোন) প্রতীক পেয়েছেন।।সাধারণ সদস্য ৩৭জন ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ১০জনের মধ্যে প্রতিক বরাদ্দ দেয়া হয়।
৫নং রামপুর ইউনিয়ন থেকে মোট ৪৩ জন প্রার্থী
ভোটের মাঠে রয়েছেন। এর মধ্যে ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে একাধিক প্রার্থী না থাকায় (নৌকা) প্রতিকের প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আল মামুন পাটওয়ারী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।সাধারণ সদস্য ৩৫ জন ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ৮জনের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়।
৬নং মৈশাদী ইউনিয়ন থেকে মোট ৪৫ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে রয়েছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৩ জন। তারা হলেনঃ (নৌকা) প্রতীক মো. নুরুল ইসলাম, (হাতপাখা) প্রতীক আজহারুল ইসলাম, স্বতন্ত্র আবু জাফর মোঃ সালেহ (আনারস) প্রতীক পেয়েছেন। সাধারণ সদস্য ৩৪ জন ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ৮জনের মধ্যে প্রতিক বরাদ্দ দেয়া হয়। এদের মধ্যে ৭নং ওয়ার্ডে একাধিক প্রার্থী না থাকায় মোঃ রাশেদ আহম্মদ ঢালী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
৭নং তরপুরচন্ডী ইউনিয়ন থেকে মোট ২৭ জন প্রার্থী
ভোটের মাঠে রয়েছেন। এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে একাধিক প্রার্থী না থাকায় (নৌকা) প্রতিকের প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান ইমাম হাসান রাসেল গাজী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এখানে সাধারণ সদস্য ১৯ জন ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ৮জন প্রার্থীর মধ্যে প্রতিক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে সাধারণ সদস্য ১নং ওয়ার্ড আরশ্বাদ মোল্লা, ২নং ওয়ার্ড হাচানাত হাজী, ৪ নং ওয়ার্ড সোবহান গাজী ওয়ার্ডে একাধিক প্রার্থী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
৮নং বাগাদী ইউনিয়ন থেকে মোট ৪৫ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে রয়েছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৫ জন। তারা হলেনঃ (নৌকা) প্রতিক বর্তমান চেয়ারম্যান আলহাজ বেলায়েত হোসেন গাজী বিল্লাল, (হাতপাখা) প্রতীক মো. নেয়ামত উল্লাহ, স্বতন্ত্র (চশমা) প্রতিক মোঃ বরকত উল্ল্যাহ খান, (আনারস) প্রতীক মানিক মিয়া, জাকের পার্টির মুনসুর বেপারী (গোলাপ ফুল) প্রতিক পেয়েছেন। সাধারণ সদস্য ৩৫ জন ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ৫ জনের মধ্যে প্রতিক বরাদ্দ দেয়া হয়। এদের মধ্যে একাধিক প্রার্থী না থাকায় সংরক্ষিত আসনে (১,২,৩) পারুল আক্তার বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
৯নং বালিয়া ইউনিয়ন থেকে মোট ৩৭ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে রয়েছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৭জন। তারা হলেনঃ (নৌকা) প্রতিক রফিক উল্যাহ মাস্টার, (হাতপাখা) প্রতীক মো. নুরুদ্দিন খান, স্বতন্ত্র (টেলিফোন) প্রতীক হাফিজুর রহমান, (আনারস) মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন তফাদার, (মটর সাইকেল) মোঃ কামরুল হাসান খান, (চশমা) প্রতীক গাজী মোঃ মাসুদ রায়হান, বর্তমান চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম (টেবিল ফ্যান) পেয়েছেন। সাধারণ সদস্য ১৯ জন ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ১১জনের মধ্যে প্রতিক বরাদ্দ দেওয়া হয়। এদের মধ্যে সাধারন সদস্য পদে ১নং ওয়ার্ডের কাদির গাজী,২ নং ওয়ার্ডের সাইফুদ্দিন খান, ৫ নং ওয়ার্ডের নেছার তালুকদার, ৯ নং ওয়ার্ডের কাদির গাজী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
১২নং চান্দ্রা ইউনিয়ন থেকে মোট ৪৮ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে রয়েছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৪ জন। তারা হলেনঃ (নৌকা) প্রতিকের বর্তমান চেয়ারম্যান খান জাহান আলী কালু পাটওয়ারী, (হাতপাখা) প্রতিক মাও. মো. মজিবুর রহমান মিয়াজী, স্বতন্ত্র (ঘোড়া) প্রতীক মুকবুল, আব্দুর রহমান বেপারী (আনারস) প্রতিক পেয়েছেন। সাধারণ সদস্য ৩৫ জন ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ৯জনের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়।

























