
মেয়েটির ঠাঁই হবে কোথায়?


ফুটফুটে মেয়েটি। হাতে মেহেদী। দুরন্তপনা বয়স। বাবা- মা বা স্বজনেরা কে কোথায় জানে না মেয়েটি। শুধু মনে পড়ে দাদী বাসে করে কুমিল্লা থেকে হাজীগঞ্জে এনে বিক্রি করেছে। পৃথীবির উন্মুক্ত বাতাসে দোলছে বার বছর বয়সী তাসফিয়া।
তারপরের গল্পটি পরেই শুনা যাক। তাসফিয়া এখন চাঁদপুরে হাজীগঞ্জ উপজেলার ৪ নং কালচোঁ ইউনিয়নের প্যারাপুর মজুমদার বাড়ীর বাসিন্দা মমতাজ বেগমের কাছে রয়েছে ।


শনিবার রাতে হাজীগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ হারুনুর রশীদ তাদের জিম্মায় দেন। তিনি পপুলার বিডিনিউজকে বলছেন, মেয়ের পরিচয় মিলছে না। শিগগির হাজীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবার সাথে কথা বলে তাকে গাজীপুর সেভ হোমে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
মমতাজ বেগম পপুলার বিডিনিউজকে বলেন, তাসফিয়া বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জনের কাছে ছিল। সে হাজীগঞ্জ পৌরসভার ইসলামীয়া মহিলা মাদ্রাসায়ও কিছুদিন কোরআন শরীফ পড়েছে।ওই মাদ্রাসার দ্বায়িত্বে থাকা শিক্ষক করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তারপর সেখানে আর ঠাঁই হয়নি তাসফিয়ার।
মমতাজ বেগম আরো জানায়, হাজীগঞ্জের বিভিন্ন অলিগলিতে ঘুরে বেড়াতো আর মানুষের কাছে সহযোগিতার জন্যে হাত বাড়িয়ে দিতো। তাসফিয়ার এই করুন অবস্থা দেখে ভাড়াটিয়া সাথীর সাথে আলোচনা করে তার বাসায় নিয়ে আসে। তাসফিয়া দুরন্তপনা স্বভাবের মেয়ে হওয়ায় তাকে নিয়ে এখন বিপাকে পড়ছেন মমতাজ বেগম ও সাথী বেগম।
এদিকে তাসফিয়া বলছেন, সে কুমিল্লা চকবাজার হাড্ডি খোলা হিন্দু বাড়ীর বাসিন্দা রফিক ও রুজিনার মেয়ে। তার দাদী তাকে টোরাগড় এলাকায় বিক্রি করেছিল।
উঠতি বয়সী তাসফিয়া দিন দিন সমাজের চোখে দুরন্তপনা হয়ে উঠছে। এখন কেউ দায়িত্ব নিতে চায় না। কোথায় ঠাঁই হবে অনাদরের এই তাসফিয়ার?


























