
কামালের একাধিক বিয়ে, চতুর্থ স্ত্রীর সাথে প্রতারণা


কচুয়া উপজেলার গোহট উত্তর ইউনিয়নের নূরপুর গ্রামের বানিয়া বাড়ির মৃত ছিদ্দিকুর রহমানের ছেলে কামাল হোসেন (৩৫) ও একই গ্রামের পাশাপাশি মুন্সী বাড়ির হত-দরিদ্র জহিরুল ইসলামের মেয়ে মাইনূর বেগম (২৫) ৪র্থ স্ত্রীর কাছ থেকে কৌশলে তালাক নামায় স্বাক্ষর নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার মাইনূর বেগম কচুয়া থানায় বাদী হয়ে ৩ জনকে বিবাদী করে এ অভিযোগ দায়ের করেছে।
অভিযোগে প্রকাশ, মাইনূর বেগম একজন বিবাহিত নারী এবং এক কন্যা সন্তানের মা । এ অবস্থায় প্রায় ১ বছর পূর্বে কামাল প্রবাসে থাকাকালীন মাইনূর বেগমের মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে কথা বলতো। মাইনূর বেগম ফোন না করার জন্য তাকে অনুরোধ করলেও বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে কথা বলা বন্ধ করতোনা এবং তার ঘর সংসার ভেঙ্গে গেলে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দেয়। এক পর্যায় মাইনূর বেগমের প্রথম স্বামী এসব ফোন আলাপ সন্দেহ করলে তাকে তালাক দিয়ে দেয়। এর পর প্রায় ৪ মাস পূর্বে কামাল প্রবাস থেকে ছুটিতে দেশে এসে মাইনূরকে বিয়ের প্রলোভনে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে অবৈধ ভাবে রাত্রি যাপন করে। এক পর্যায়ে সামাজিক চাপে কামাল গত ১৬/০৬/২০২১ ইং তারিখে ইসলামি শরীয়া মতে বিবাহ করে। বিবাহর পরই কামাল মোটা অংকের যৌতুক দাবীসহ তাকে মারধর, শারীরিক, মানসিক ভাবে নির্যাতন করে আসতো এবং গত ২০/০৮/২০২১ ইং তারিখের সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার সময় এক কাপড়ে মাইনূরকে পিত্রালয়ে পাঠিয়ে দেয়। এর একদিন পর ২১/০৮/২০২১ ইং তারিখের দপুর দেড়টার দিকে কামাল মাইনূরকে স্থানীয় রহিমানগর বাজারে আসতে ফোন করলে সরল বিশ্বাসে আসে এবং মাংস বাজারের দক্ষিণ পাশে একটি বিল্ডিং এর ভিতরে নিয়ে জোরপূর্বক ও বিভিন্ন কলাকৌশলে একটি কাগজে স্বাক্ষর নেয়। মাইনূর কোনো লেখাপড়া করেনি, স্বাক্ষর ছাড়া কিছুই জানতো না এবং তা যে, তালাকপত্র। তালাকের পর কামাল মাইনূরের বাড়িতে গিয়ে এর নোটিশ তার শরিরে ছুড়ে ফেলে চলে যায় এবং কচুয়া থানা এ অভিযোগ দায়ের করে।


কামালের বক্তব্য নেয়ার জন্য তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নাম্বারে কল দেয়া হলে রিসিভ করলেও সে কোনো সত্য উত্তর না দিয়ে লাইন কেটে দেয়। পরক্ষণে আবার কল দেয়া হলে অন্য একজন রিসিভ করে বলে, কামাল এখন নেই সে কিসের বক্তব্য দেবে, তালাক দিয়ে মানসম্মান ক্ষুণ্য করেছে এবং কামালও গতকালকে থানায় অভিযোগ করেছে বলে জানায়। অসহায় দরিদ্র মাইনূর ও তার পরিবারের সদস্যরা ন্যায় বিচার পাওয়ার দাবী করেছে।
এ ব্যাপারে কচুয়া থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মহিউদ্দিন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।




























