
করোনা চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে অনেকেরই হিমশিম অবস্থা


বসুন্ধরায় ক্যানসার আক্রান্ত মা এসেছিলেন মেয়ের কাছে বেড়াতে। এসে প্রথমে করোনায় আক্রান্ত হন তাঁর ছেলে, তারপর তিনি নিজে। দিন কয়েক বাদে জামাতা। তিনজন রোগীর মধ্যে কে পাবেন সর্বোত্তম চিকিৎসা, তা নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সমস্যায় পড়ে যায় পরিবারটি।
চিকিৎসাসহায়তা পেতে এই পরিবারকে সাহায্য করেছেন তাঁদের এক স্বজন। তিনি বলেন, এই পরিবারের মা ও ছেলে—দুজনের অবস্থাই ছিল জটিল। রোগের চিকিৎসা ব্যয়বহুল। কাকে ভর্তি করতে চান আগে, জানতে চাইলে মেয়ে ভাইয়ের কথা বলেন। মা কেন নন, এমন প্রশ্নে মেয়ে বলে ফেলেন, মায়ের বয়স বেশি। তিনি জটিল রোগে ভুগছেন। ভাইয়ের বয়স কম। হয়তো চিকিৎসায় বেঁচে যাবেন। তাঁর স্ত্রী-সন্তান আছে। পুরো পরিবার নইলে পথে বসে যায়। এর কিছুক্ষণ বাদেই মায়ের অবস্থা আরও খারাপ হয়। পরিবারের একমাত্র সুস্থ সদস্য মেয়েটি এবার মায়ের জন্য একটা আসনের খোঁজ শুরু করেন।
সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার খরচ অপেক্ষাকৃত কম। কিন্তু সেখানে শয্যা কম। সব সময় সব ওষুধ বিনা মূল্যে পাওয়াও যায় না। তবু রোগীরা যাচ্ছেন। শয্যা খালি নেই, এই নোটিশ দেখে রোগীকে নিয়ে ছুটতে হচ্ছে বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানকার ব্যয় আকাশচুম্বী। করোনায় মা–বাবা ও স্ত্রীকে হারিয়েছেন, এমন এক ব্যক্তি প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, ব্যয় মেটাতে তিনি জমি বিক্রি করেছেন। এ ছাড়া অনেকে ঋণ করছেন। করোনাভাইরাসে মানুষ মরছে, পাশাপাশি পরিবারগুলো অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু হয়ে পড়ছে।


গত বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বাইরে দাঁড়িয়ে কথা হচ্ছিল মো. বাবুলের সঙ্গে। তিনি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থেকে স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তারকে নিয়ে এসেছেন। বাবুল বলেন, ‘যেদিন আসছি, বউয়ের শ্বাসে খুব রাগ (তীব্র শ্বাসকষ্ট) আছিল, এখন সহজ হয়া আসছে। থাকা-খাওয়া, কয়েকটা ওষুধ ফ্রি। তা–ও বাইরে থেকে ওষুধ কিনছি সাড়ে আট হাজার টাকার।’
সূত্র: প্রথম আলো
H/N




























