
দোয়া কবুলের মাস রমজান


মুমিন বান্দার জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের সুবর্ণ সুযোগ নিয়ে আসে রমজানুল মোবারক। আল্লাহ যাদের তাওফিক দান করেন তারা পবিত্র এ সময়গুলোয় সিয়ামব্রত পালনের পাশাপাশি কুরআন তেলাওয়াত, জিকির-আজকার ও মোনাজাতের মাধ্যমে খোদার সন্তুষ্টি অর্জন করেন।
তওবা-ইসতিগফার ও নফল নামাজের পর খোদার কাছে কেঁদে কেঁদে জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও জান্নাতের আবেদন করেন।
হজরত উবাদাহ ইবনে সাবেত (রা.) বলেন, একবার রমজানের কিছুদিন আগে রাসুল (সা.) আমাদের বললেন, রমজান মাস সমাগত প্রায়। এটা বড়ই বরকতের মাস। আল্লাহতায়ালা এ মাসে তোমাদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেন এবং রহমত বর্ষণ করেন। গোনাহ মাফ করেন, দোয়া কবুল করেন। ইবাদতের প্রতি তোমাদের আগ্রহ লক্ষ করেন এবং তা নিয়ে ফেরেশতাদের কাছে গর্ব করেন। সুতরাং আল্লাহকে সৎকাজ দেখাও। হতভাগা ওই ব্যক্তি, যে এ মাসে আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত থেকে গেল। (তবরানি শরিফ)


অন্য হাদিসে এসেছে রাসুল (সা.) বলেছেন, রমজানের প্রতিটি দিবা-রজনিতে অসংখ্য জাহান্নামিকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং প্রতিদিন প্রতিটি মুসলমানের একটি করে দোয়া কবুল হয় (আত্তারগিব ওয়াত্তারহিব)। এ হাদিস দুটি দিয়ে প্রমাণিত হয় রহমতের এ মাসে মাওলার কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া মুমিনের দায়িত্ব। দুনিয়া আখিরাতের কল্যাণের জন্য বেশি বেশি দোয়ার আমল করা প্রকৃত রোজাদারের কাজ। অত্যন্ত আফসোসের সঙ্গে বলতে হয় আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে পবিত্র এ মাসে এতসব ফজিলতের ঘোষণা থাকার পরও দিনের-পর-দিন চলে যায় কিন্তু খোদার দরবারে কায়মনে প্রার্থনা করার সুযোগ আমাদের অনেকেরই হয় না।
যারা আগ্রহ নিয়ে দোয়া করি, আমরা ক’জনই-বা দোয়ার সব শর্ত পালন করি! এ প্রসঙ্গে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআনের সুরা আরাফের ৫৫ ও ৫৬ নম্বর আয়াতে বলেন, তোমরা তোমাদের রবকে ডাক বিনয়ের সঙ্গে গোপনে। নিশ্চয়ই তিনি ভালোবাসেন না সীমা লঙ্ঘনকারীদের। আর জমিনে সংস্কার আসার পর তাতে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করো না এবং তাকে ডাক ভয় ও আশা নিয়ে। নিশ্চয়ই আল্লাহর রহমত ইহসানকারীদের অতি নিকটে।




























