
কচুয়ায় আলুর বাম্পার ফলন, দাম বেশি পাওয়ায় খুশি কৃষকরা


কৃষকের চোখে মুখে আনন্দের হাসি,দীর্ঘমেয়াদী শৈত্যপ্রবাহ না থাকায়, রোগ-বালাই কম হওয়ায় এবং আবহওয়া অনুকূলে থাকায় কচুয়ায় আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। গত বছর ভালো দাম পাওয়ায় এ বছর প্রায় ৫শ’ হেক্টর জমিতে আলু চাষ বেশি হয়েছে। ফলনের পাশাপাশি ১৪ টাকা কেজি দাম পেয়ে খুশি কৃষক। আমন ধান কাটার পর একই জমিতে আলু চাষ করে অতিরিক্ত অর্থ আয় করছেন। এতে আমন ধান চাষে ঘাটতি অর্থ পুষিয়ে নেয়ার পাশাপাশি, একই জমিতে বছরে তিন ফসল উৎপাদন করছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গত বছর কচুয়ায় প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়েছিলো। চলতি মৌসুমে কচুয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ২ হাজার ৬শ’ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। এবার আলুর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন। বর্তমানে প্রতি হেক্টর জমিতে ১৮ টন থেকে ২২ টন পর্যন্ত আলু উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।


উপজেলার উত্তর বুধুন্ডা গ্রামের আলু চাষী শহীদ উল্লাহ জানান, গত বছর আলুর ভালো দাম পাওয়ায় এ বছর ১০ একর জমিতে আলুর চাষ করেছি। আলু চাষের শুরু থেকে উত্তোলন পর্যন্ত বিঘাপ্রতি খরচ পড়ে ৩৫-৪০ হাজার টাকা।
আলু চাষী সাইফুল ইসলাম সুমন জানান, আমার ক্ষেতে আলু প্রায় ৭০ দিনের মধ্যে পরিপক্ক হয়েছে। পাইকাররা আমার এক একর জমির আলু ক্ষেত ৭৫ হাজার টাকায় কিনে নিয়েছেন। আলু চাষে আমার খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। স্বল্পসময়ে ৪৫ হাজার টাকা আয় করেছি। বর্তমানে ওই জমিতে ইরি-বোরো ধান রোপণের প্রস্তুতি নিচ্ছি আমি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোফায়েল হোসেন জানান, এবার উপজেলায় প্রায় ৫শ’ হেক্টর জমিতে আলু চাষ বেশি হয়েছে এবং ফলনও ভালো হয়েছে। রোগ-বালাইও কম হয়েছে। আগাম আলুতে কৃষক ভালো দাম পেয়েছে। পরবর্তী সময়েও আলুর দাম পাবে কৃষক। কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কৃষকদের কাছে গিয়ে আলুর ফলন বৃদ্ধি করতে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। আগামীতেও আলু বেশি উৎপাদনের জন্যে কৃষকদের নিয়ে উঠোন বৈঠকসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হবে। তবে সংরক্ষণের আরো সুব্যবস্থা থাকলে অন্য মৌসুমে লাভজনক দামে আলু বিক্রি করতে পারবে চাষীরা।




























