
হাজীগঞ্জে নারী উদ্যোক্তার বাসায় দুর্ধর্ষ চুরি, খোয়া গেল নগদ টাকা-স্বর্ণ-গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র


স্বামীর মৃত্যুর পর দুই সন্তানকে মানুষ করতে সংগ্রাম করে গড়ে তোলা সংসারে দুর্ধর্ষ চুরির শিকার হলেন এক নারী উদ্যোক্তা। চোরের দল নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারের পাশাপাশি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সব সনদ ও দলিলপত্রও নিয়ে গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে রোববার দিনগত রাতে। হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের প্রফেসর পাড়ার ‘অরুনিমা ভিলা’র নিচতলার পশ্চিম পাশের ফ্ল্যাটে এ চুরির ঘটনা ঘটে।
অভিযোগকারী নাছিমা আক্তার ওই ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া। তিনি শাহরাস্তি উপজেলার সূচীপাড়া ইউনিয়নের বড়ুয়া গ্রামের মৃত ফয়জুল আলমের স্ত্রী। স্বামী মারা যাওয়ার পর প্রায় এক দশক ধরে তিনি একাই দুই সন্তানকে লেখাপড়া করিয়ে আসছেন। উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করে সংসার, বাসা ভাড়া ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালান।


থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে নাছিমা আক্তার জানান, রোববার রাতে তিনি ছেলে-মেয়েকে নিয়ে তিন রুমের বাসার সামনের রুমে ঘুমিয়েছিলেন। রাত আনুমানিক সোয়া ২টার দিকে চোরের দল কৌশলে বারান্দার দরজা খুলে ঘরে প্রবেশ করে।
ফজরের আজানের সময় আলমারি খোলার শব্দে তার ঘুম ভেঙে যায়। চোরের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি চিৎকার শুরু করলে ছেলে-মেয়ে জেগে ওঠে। এসময় চোরেরা পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়।
পরে ঘরের ভেতর তল্লাশি করে দেখেন, আলমারি, স্যুটকেস ও আসবাবপত্র তছনছ। চোরেরা নিয়ে গেলল নগদ ১২ হাজার ৫০০ টাকা, সাড়ে ১০ আনা ওজনের ১টি স্বর্ণের চেইন, ছেলের হাতের দামি একটি ঘড়ি, বাসার সামনে ও পেছনের গেটের নতুন ২ সেট চাবি।
সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র খোয়া যাওয়ায়। চুরি যাওয়া কাগজপত্রের মধ্যে রয়েছে- তার নিজের ও ছেলে-মেয়ের জন্মনিবন্ধন, শিক্ষা সনদ, জয়ীতা সনদ, উদ্যোক্তা সনদ, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদ, বিভিন্ন প্রশিক্ষণের সার্টিফিকেট, ওয়ারিশ সনদ, স্বামী-শ্বশুর-শাশুড়ির মৃত্যুসনদ, ব্যাংকের কাগজপত্র, টিআইএন সার্টিফিকেট এবং স্বামীর বসতবাড়ির দলিল।
নাছিমা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “এই কাগজগুলোই আমার সম্বল। চাকরি, ব্যাংক, জমি- সব কিছুর জন্য এগুলো লাগবে। এখন আমি কী করবো?”
খবর পেয়ে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে হাজীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল মান্নান বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তের জন্য পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।”
এ ঘটনায় প্রফেসর পাড়ার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

























