
হাজীগঞ্জে শাহ-মিরান হাসপাতালে সিজারের পর প্রসূতির মৃত্যু, ৭ চিকিৎসক-কর্মকর্তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ


হাজীগঞ্জ পূর্ব বাজার শাহ-মিরান হাসপাতালে সিজার অপারেশনের পর লামিয়া আক্তার তুবা (২১) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসকের অবহেলার অভিযোগ এনে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। শুক্রবার (১৯ জুন ২০২৬) বিকাল আনুমানিক ৫টায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত তুবার মা মোসাঃ ফাতেমা বেগম হাজীগঞ্জ থানায় দায়ের করা অভিযোগে জানান, প্রসব বেদনা শুরু হলে মেয়েকে সুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ডিউটি ডাক্তার সাইফুল ইসলামের ইঙ্গিতে সিজার রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। সিজারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করলেও দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও তুবার জ্ঞান ফেরেনি। কর্তব্যরত ডাক্তার ও নার্সদের অবহেলার কারণে সিজার রুমেই তার মৃত্যু হয়। তবে নবজাতক সুস্থ আছে।
অভিযোগপত্রে হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ ওয়াসীক ফয়সাল (৫০), ডাঃ আবুল কালাম আজাদ (৫৭), স্বত্বাধিকারী মোশারফ হোসেন পাটওয়ারী (৬০), ডিউটি ডাক্তার সাইফুল ইসলাম (৫০), ম্যানেজার মোঃ মাসুদ (৪৫), ডিউটি ডাক্তার মোঃ সাজ্জাদ হোসেন (৪০) ও পরিচালক মোঃ আলম (৪০) সহ আরও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, মৃত্যুর বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্তরা উত্তেজিত হয়ে অশোভন আচরণ ও ভয়ভীতি দেখিয়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান।


আইনি প্রতিকার কী হতে পারে?
আইনজীবীরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ৩ ধরনের আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেন:
১. ফৌজদারি মামলা:
দণ্ডবিধি অনুযায়ী, বেপরোয়া বা অবহেলাজনক কার্য দ্বারা কারো মৃত্যু ঘটালে এবং তা শাস্তিযোগ্য নরহত্যা না হলে, অভিযুক্ত ব্যক্তি পাঁচ বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অথবা অর্থদণ্ড, অথবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।
২. দেওয়ানি মামলা:
পরিবারের সদস্যরা আদালতের মাধ্যমে হাসপাতাল বা দায়ী চিকিৎসকের কাছে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন।
৩. বিএমডিসিতে অভিযোগ:
অভিযুক্ত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC)-এ অভিযোগ দায়ের করা যায়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের নিবন্ধন বাতিল বা স্থগিত হতে পারে।
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুল মান্নান জানান, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

























