হাজীগঞ্জ উপজেলার ৪নং কালচোঁ দ. ইউনিয়নের রামপুর বাজারে প্রাথমিক চিকিৎসার নামে চলছে প্রতারণা। অন্ধকার গলিতে চলছে ভয়ংকর চিকিৎসা।
সরেজমিনে গিয়ে কথিত চিকিৎসক রঞ্জিত কর্মকারের সাথে কথা বললে ভয়ংকর চিকিৎসার দায় স্বীকার করেন তিনি।
রোববার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কথিত পল্লী চিকিৎসক কোন প্রকার সাইনবোর্ড ব্যবহার করেনি তার চেম্বারের সামনে। একটি অন্ধকার গলির ভিতর চিকিৎসা দিতে একটি কক্ষে রোগীদের ভীড়। পুরুষের চেয়ে মহিলা রোগীর সংখ্যাই বেশি। করোনাকালীন মাস্ক ব্যবহারেও কোন বাধ্যবাধকতা নেই। নিজেও মুখের নীচে মাস্ক রেখে রোগী দেখছেন। টেবিলে রয়েছে একটি ল্যাপটপ, একটি রোগ নির্নয়কারী যন্ত্র (যাহার কোন বৈধতা নেই) ও হাতে প্রেসার মাপার যন্ত্র। কোন ঔষধ নেই।
এই বিষয়ে কথা হয় রামপুর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এস. এম. মানিকের সাথে। তিনি বলেন, কেউ যদি অবৈধ উপায়ে ব্যবসা করতে চায় সেজন্য প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন। আমি সাময়িকভাবে রঞ্জিত সরকারকে সতর্ক করেছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন ফার্মেসী স্বত্ত্বাধিকারী বলেন, রঞ্জিত একটি রোগ নির্নয়কারী অবৈধ যন্ত্র দিয়ে মানুষকে প্রতারণা করছে। হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যাম প্লেট ব্যবহার করছে না। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে জোর দাবী জানাচ্ছি।
কথা হয় কথিত পল্লী চিকিৎসক রঞ্জিত কর্মকারের সাথে। তিনি বলেন, আমার ভুল হয়ে গেছে। আমি সরকারি সকল নিয়ম পালন করতে দ্রুত ব্যবস্থা নিব। ফার্মেসী ছাড়া চিকিৎসক পেডে সেবা প্রেসক্রাইব করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবী করে বলেন, আমার এই বিষয়ে বৈধতা আছে। আমি কোন ফার্মেসী ব্যবসা করি না।
হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এসএম সোয়েব আহম্মেদ চিশতী বলেন, ডিএমএফ সনদের জন্য নির্দিষ্ট রেজিস্ট্রেশন নম্বর থাকতে হবে। তবে সাইনবোর্ড, রোগ নির্নয়কারী যন্ত্র ও অন্যান্য বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।