কচুয়ার বিতারা ইউনিয়নের সাজিরপাড়ে মামলা দিয়ে হয়রানি, সালিশের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
রবিবার ২৬ এপ্রিল বিকেলে সাজিরপাড় গ্রামবাসীর আয়োজনে ওই গ্রামের কচুয়া – সাচার সড়কের সাজিরপাড় এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। শতশত নারী পুরুষ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে অংশগ্রহণ করে প্রতারক ও দুর্নীতিবাজ, মাদক কারবারি সুফিয়া বেগমের শাস্তির দাবী জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় সুফিয়া বেগমের বিভিন্ন দুর্নীতি ও প্রতারনার অভিযোগ তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন সজিরপাড় গ্রামের মুসলিম মিয়ার ছেলে গাজী মিয়া,ইদ্রিস মিয়ার ছেলে আলমগীর হোসেন, নজরুল ইসলাম, স্ত্রী লুৎফা বেগম,দুধ মিয়ার ছেলে সামসু মিয়া, বিতারা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হারুন অর রশীদ, ভুক্তভোগী রোজিনা বেগম,কবিরের স্ত্রী ফাতেমা বেগম প্রমূখ।
বক্তাগন সাবেক ইউপি সদস্য সুফিয়া বেগমের দুর্নীতি ও প্রতারণার তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান । বিগত ১৬ বছরে থানা ও চাঁদপুর কোর্টের মাধ্যমে মামলা দিয়ে সুফিয়া বেগম এলাকার ১৭টি পরিবারকে নিঃস্ব করে দিয়েছে বলে তারা দাবি করেন । তাছাড়া ওই সময়ের ক্ষমতাসীন দলের কচুয়ার কিছু নেতার প্রভাব খাটিয়ে মামলা ও সালিশের মাধ্যমে বহু পরিবারের সম্পত্তি বিক্রি করিয়ে নিজে অভিনব কৌশলে টাকা আত্মসাৎ করেছে ।
ভুক্তভোগী গাজী মিয়া বলেন , সুফিয়া বেগম
আমার বিবাহিত বোন সাহিদা আক্তারের নামে তার স্বামী আলমগীর হোসেনকে দিয়ে ২০১০ সালে কচুয়া থানায় মিথ্যা মামলা দায়ের করে সুফিয়া বেগম সালিশের নামে থানায় নিয়ে অলিখিত স্টাম্পে আমার বোন শাহিদা আক্তারের স্বাক্ষর নিয়ে মিথ্যা তালাকের কথা বলে সুফিয়া বেগমের মধ্যস্থতায় তিন লক্ষ টাকার রায় প্রদান করে এবং আলমগীরের পরিবারের নিকট থেকে ৩ লক্ষ টাকা আদায় করে সুফিয়া বেগম ওই টাকা আত্মসাৎ করে। দীর্ঘ ১৬ বছর পর ১১ এপ্রিল এ ঘটনায় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শহীদ উল্লাহ ভূইয়ার সভাপতিত্বে সজিরপাড়া গ্রামে সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সালিস বৈঠকে সবার উপস্থিতিতে প্রমানিত হয় সুফিয়া ৩ লক্ষ টাকা আলমগীরের পরিবারের কাছ থেকে গ্রহণ করে সাহিদাকে না দিয়ে আত্মসাৎ করে। সুফিয়া বেগম ও তার ছেলে আবু তাহের ওই টাকা শাহিদা আক্তারকে ১৮ এপ্রিল শনিবার ফেরত দিবার কথা স্বীকার করে উপস্থিত গ্রামবাসীর সম্মুখে অঙ্গীকারনামা প্রদান করেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীগন জানান, সুফিয়া বেগম মাদক দিয়ে এলাকার যুব সমাজকে ধ্বংস করে দিয়েছে ।
সজিরপার গ্রামের ভুক্তভোগী ও সাধারণ জনগণ প্রশাসনের কাছে সুফিয়া বেগমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।