কচুয়ায় কৃষি জমির টপসয়েল বিক্রির মহোৎসব চলছে,সেটা কোনভাবেই থামছে না। আইন অমান্য করে প্রতিনিয়ত প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে একদল অসাধু ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন মাটি কেটে চলছে।এতে একদিকে কৃষি জমি উর্বরতা হারাচ্ছে,অপরদিকে একশ্রেণীর সিন্ডিকেটের পকেট ভর্তি হচ্ছে। এছাড়াও ট্রাক্টর নামক দানব যানবাহন চলাচলের কারনে রাস্তাঘাট নষ্ট হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে,একটি প্রভাবশালী মহল কৃষকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে কম দামে জমির মাটি ক্রয় করে বেশি বিক্রি করে।একটি বছর পার না হতেই বর্ষাকাল হলেই পাশের জমি বিলীন হয়ে যায়।তখন পাশের জমিটি ক্রয়ের জন্য মালিককে ভয়ভীতি দেখানো শুরু করে।তখন প্বার্শবর্তী জমির মালিক নিরুপায় হয়ে জমি বিক্রয় করতে বাধ্য হয়।
প্রশাসনের দাবি, জমির উপরিভাগের মাটি কাটা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কচুয়া উপজেলার বাছাইয়া, ঘাগড়া, দোয়াটি ও তেতৈয়া বিল এলাকায় প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ট্রাক্টরের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। কয়েক শতাধিক একর ফসলি জমি ইতোমধ্যে বিনষ্ট করা হয়েছে। ফলে আশপাশের জমিও ভেঙে পড়ছে এবং অনেক স্থানে সেচের পানি পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে কৃষকদের উৎপাদন ব্যাহত হয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
বাছাইয়া গ্রামের কৃষক রঞ্জিত বলেন, “আমার পাশের জমিতে মাটি কেটে নেওয়ায় আমার শেষ সম্বলটুকু বিলীন হওয়ার পথে। কিছুদিনের মধ্যেই আমার শেষ জমিটুকু বিলীন হয়ে যাবে। এই জমির ফসল দিয়েই আমার সংসার চলে।”
এসময় মকবুল নামে মাটি ব্যবসায়ী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানান, আইনে কি বলা আছে আমি জানিনা তবে আমি কৃষককের কাছ থেকে মাটি কিনে বিক্রি করি।
এ বিষয়ে কচুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু নাছির বলেন, “কৃষি জমি থেকে মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। খবর পেলেই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। যারা অবৈধভাবে মাটি কাটবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অবিলম্বে কঠোর নজরদারি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে কৃষি জমি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, না হলে ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদনে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।