চাঁদপুরের ৮ উপজেলায় মোট ১ হাজার ১’শ ৫৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। যার মধ্যে প্রায় ১ হাজার প্রতিষ্ঠানেই নেই শহীদ মিনার। এতে অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণে কাঠ আর কলা গাছেই ভরসা ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শিক্ষার্থীদের। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন ইতোমধ্যে সব-কটি প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করতে হয়েছে।
শনিবার সকালে হাজীগঞ্জ পৌরসভার কংগাইশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গিয়ে দেখা যায়, কলা গাছ দিয়ে তৈরি ছোট একটি শহীদ মিনার। এই শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষার দাবিতে বীর বাঙালি রাজপথে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিল। তাদের স্মৃতি স্মরণ করতে নির্মাণ করা হয় শহীদ মিনার। আন্দোলনের মর্মন্তুদ ও গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতিবিজড়িত এই দিনটি স্মরণে শহীদ মিনারে নিবেদন করা হয় শ্রদ্ধার্ঘ।
তবে ভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর পেরিয়েও চাঁদপুরের ৮ উপজেলার প্রায় ১ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থায়ী শহীদ মিনার নেই। সাধারণত সরকারি নির্দেশনার আলোকে অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করে দিবসটি পালন করা হয়। এর ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাতৃভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও তাৎপর্য সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা তৈরি হচ্ছে না।
প্রতি বছর কলাগাছ বা কাঠ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। দ্রুত বিদ্যালয়ে স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণের দাবী তাদের।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রথম ধাপ প্রাথমিক বিদ্যালয়। চতুর্থ এবং পঞ্চম শ্রেণীতে মাতৃভাষার ইতিহাস নিয়ে গল্প থাকলেও ভাষা শহীদদের যথাযথ সম্মান জানানো কষ্টকর হয়ে উঠে শহীদ মিনারের অভাবে বলছেন শিক্ষকেরা। তাই প্রতিবছরই কাঠ আর কলা গাছেই ভরসা শ্রদ্ধা জানাতে।
এদিকে জেলার শতকরা ৮৫ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার না থাকার কথা স্বীকার করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলছেন, ইতোমধ্যে শহীদ মিনার না থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা করা হয়েছে। বেসরকারি অর্থায়নে শীঘ্রই শহীদ মিনার নির্মাণ করার তাগিদ দেয়া হয়েছে বলে জানান চাঁদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ মোছাদ্দেক হোসেন।
কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভাষা সৈনিকদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও ভাষা দিবসের মাহাত্ম্য উপলব্ধি করাতে প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করার তাগিদ সচেতন মহলের।