হাজীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হাজিগঞ্জ ডিগ্রী কলেজ। কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মাসুদ আহাম্মদ।
তার বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের এক অভিবাবক অর্থনৈতিক ও অনৈতিক অনিয়ম প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, শিক্ষা দপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তর বরাবর একটি অভিযোগ প্রেরণ করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কাজ শুরু হয়েছে।
গত মঙ্গলবার হাজিগঞ্জ ডিগ্রী কলেজে কুমিল্লা অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক তদন্ত দল কলেজ পরিদর্শনে আসেন। ওই সময় তদন্ত দায়িত্বাধীন কর্মকর্তারা কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়মের খোঁজখবর নেন।
রোববার কুমিল্লা অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা শাখার উপ-পরিচালক মোঃ বাহাদুর হোসেন নিশ্চিত করে বলেন, শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী হাজীগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত কাজ শুরু হয়েছে। সম্প্রতি আমরা কলেজটি পরিদর্শন করেছি।
কলেজ অধ্যক্ষের অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন হাজীগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের স্নাতক বিভাগের এক ছাত্রীর অভিভাবক মো. আনোয়ার হোসেন।
অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন, অধ্যক্ষের মাদকাসক্তের বিষয়টি টেস্ট করালে প্রমাণ পাওয়া যাবে বলে তিনি অভিযোগ এ দাবি জানিয়েছেন।
এছাড়াও কলেজের উপবৃত্তি প্রদানের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে টাকা গ্রহণ এর প্রমাণ স্বরূপ অধ্যক্ষের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি বিভিন্ন পত্রিকার কাটিং জমা দেয়া হয়েছে। তৃতীয়ত একজন ব্যক্তির নামে খরিদকৃত মালামালের ভাউচার হাজিগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ কলেজের ভাউচার হিসেবে গণ্য করে কলেজের টাকা আত্মসাৎ করেছে।
চতুর্থত অধ্যক্ষ কলেজের যোগদানের এক বছরের মধ্যে কলেজের প্রায় ২৫ টি কাঠের গাছ কর্তন করে, নিয়ম মোতাবেক সরকারি ট্রেজারিতে কাঠের মূল্য বাবদ টাকা জমা দিতে হয়। অধ্যক্ষ কলেজ থেকে এ বাবদ ১৬ হাজার টাকার কলেজ ভাউচারের নিয়ে যায়। কিন্তু ট্রেজারী চালানের গ্রাহক অংশটি কলেজ আজও জমা দেয়া হয়নি। এতে প্রমাণিত হয় যে অধ্যক্ষ ওই টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
পঞ্চমত সরকার কর্তৃক কলেজে কাজ করার জন্য যুব উন্নয়ন থেকে যে চারজন লোক দেয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে মাত্র একজন কলেজে মাঝেমধ্যে আসতেন। বাকি তিনজন কখনো কলেজে আসতেন না। কলেজে না এসে অধ্যক্ষকে একটা অংশ টাকা দিয়ে মাসিক প্রতিবেদন নিজেদের বেতন পাওয়ার পক্ষে নিয়ে নিতেন, যা শিক্ষক-কর্মচারীগণকে জিজ্ঞাসা করলে পাওয়া যাবে।
ষষ্ঠতম হলো কলেজ অধ্যক্ষ পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ের প্রদর্শক আবুল কালাম ৬০ বছর পূর্তি অবসরে যাওয়ার কথা। কিন্তু অধ্যক্ষ তার অপকর্মগুলো এ শিক্ষকের মাধ্যমে করে থাকেন বিধায় তাকে অবসরের না পাঠিয়ে দুই বছরের জন্য নিয়োগ দেন। তার মাসিক বেতন নির্ধারণ করেছেন ১০ হাজার টাকা। অথচ এনটিআরসির প্রভাষকের বেতন ৮ হাজার টাকা।
এ বিষয়ে কলেজের একাধিক শিিক্ষার্থী নিশ্চিত করেন তদন্ত দল মঙ্গলবার তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ভাবে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়েছে।