হাজীগঞ্জ উপজেলার ৬নং বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের এন্নাতলী গ্রামে মারামারির ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করা হয়েছে। ৬ নভেম্বর শুক্রবার দায়ের করা অভিযোগে বাদী ছিলেন একই গ্রামের মো. আবুল হাসেমের ছেলে মো. মিজানুর রহমান(৫০)।
বিবাদীরা হলেন, একই গ্রামের মহিউদ্দিন দুলাল পাটওয়ারীর ছেলে তানভীর আহমেদ পাটওয়ারী (২২), গোলাম কিবরিয়া পাটওয়ারী কল্লল (২৫), রেহান উদ্দীন পাটওয়ারীর ছেলে মহিউদ্দীন পাটওয়ারী (৫৫)।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ৫ নভেম্বর সকালে এন্নাতলী গ্রামের ছৈয়াল বাড়ির উত্তর পাশে বাদীর দোকান ঘরের সামনে ও ভিতরে বিবাদীরা আকষ্মিক হামলা চালায়।
হামলার ঘটনায় দায়ের করা জিডি’র বাদী মিজানুর রহমান ঘটনার বিবরণীতে বলেন, আমার কফি হাউজ দোকানে বিবাদীগণ হামলা চালিয়ে দোকান তুলে নেয়ার অপচেষ্টা চালায়। প্রতিবাদ করলে বিবাদীগণ হুমকী-ধমকী প্রদর্শন এবং মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। পরবর্তীতে দোকানে থাকা ১২ হাজার টাকা, আমার কাছে থাকা ১০ হাজার টাকা, দোকানের আনুমানিক ১০ হাজার টাকার মালামাল, আমার মেয়ের গলায় থাকা ১২ আনি স্বর্নের চেইন লুট করে নিয়ে যায়।
সরেজমিনে গিয়ে কথা বললে মিজানুর রহমান জানান, দুলাল গং আমার কাছ থেকে পূর্বের একটি ঘটনায় ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে। এমনকি আজ (ঘটনার দিন) সকালে আমার স্ত্রী সালমা বেগম আমার ডাক চিৎকারে বাঁচাতে আসলে তার সাথে গালমন্দ ও অশালীণ আচরণ করেন। আদালতে সুবিচার প্রার্থী হয়ে ৮ নভেম্বর রবিবার (আজ) দুটি মামলার প্রস্তুতি নিয়েছি।
এক প্রশ্নের জবাবে মিজানুর রহমান বলেন, সম্পত্তিগত বিরোধ দীর্ঘদিন যাবৎ চলছে। সেটি নিরসনে আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। আরেক প্রশ্নের জবাবে মিজানুর রহমান বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সমস্যা নিরসনে কোন উদ্যোগ নেননি। স্থানীয় ইলেকট্রিক মিস্ত্রী সফিকুর রহমান বলেন, সকালে কফি হাউজের কফি মেশিনে ইলেকট্রিক লাইন লাগানোর জন্য কাজ করছি।
এমন সময় স্থানীয় দুলাল পাটওয়ারী ও তার ছেলে তানভীর আর কল্লোল আমাকে মারতে আসে। দুলাল পাটওয়ারী তার ছেলে তানভীরের হাতের দেশীয় অস্ত্র ঠেকিয়ে দিলে আমি প্রাণে বেঁচে যাই। এরপর সেখান থেকে পালিয়ে গেলে মিজানকে একা পেয়ে তারা মারধর করে। ঘটনার দিন সকালে বাদী মিজানুর রহমান হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে রয়েছেন।
এই বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ মো. আলমগীর হোসেন রনি শনিবার বিকেলে মুঠোফোনে জানান, বিষয়টি অবগত হয়েছি। থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছে মো. মিজানুর রহমান। ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে আদালতে রিপোর্ট প্রেরণ করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সম্পত্তিগত বিরোধের বিষয়টি আমাদের থানা সংশ্লিষ্ট নয়। আদালতে দ্বারস্থ হয়ে সমস্যা নিরসন সম্ভব।
এদিকে বিবাদী গোলাম কিবরিয়া কল্লল বলছেন, ‘ঘটনাটি সাজানো।’