কুমিল্লার মুরাদনগরে নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলার মূল আসামি ফজর আলীকে ঢাকার সায়দাবাদ থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ফজর আলীকে ঢাকার সায়দাবাদ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান। এছাড়া ধর্ষিতার বিবস্ত্র ভিডিওধারন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে আরো চারজনকে জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ভিডিও ধারণকারী অনিক, সুমন, রমজান এবং বাবু মামলার প্রধান আসামী ফজর আলী সবাই মুরাদনগর এর পাঁচকিত্তা এলাকার বাসিন্দা। শনিবার মধ্যরাতে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার স্বাক্ষরিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল ইসলাম। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২৬ জন আনুমানিক রাতে মুরাদনগর থানাধীন রামচন্দ্রপুর পাঁচকিত্তা গ্রামে একজন প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষনের অভিযোগে ফজর আলী নামে এক ব্যক্তি আটক ও প্রহৃত হন। পরবর্তীতে ফজর আলী সেখান থেকে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে কিছু লোক তাৎক্ষনিকভাবে ভিকটিমের ভিডিও ধারন করে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। খবর পেয়ে মুরাদনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করে। ভিকটিম নারী নিজে বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।
ঘটনাটি ভিডিও ধারন করে যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে তাদের মধ্যে চার জনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে। মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান আরো জানান, ভুক্তভোগী নারী অভিযুক্ত ফজর আলীকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। ওই নারীর মেডিক্যাল পরীক্ষা করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান জানান, মূল অভিযুক্ত ফজর আলীকে ঢাকার সায়দাবাদ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এবং ভিডিও ধারণকারী ও সরবরাহকারীদের কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে আলাদা একটি মামলা দায়ের করা হবে। মূল অভিযুক্ত ফজর আলী আহত অবস্থায় থাকায় তাকে আইন অনুযায়ী চিকিৎসা দেয়ার পর আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
মামলায় ঘটনার বিবরন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হোমনা থেকে মুরাদনগরে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসলে পূর্ব পরিচিত ফজর আলী ২৬ জুন রাতে কৌশলে দরজা খুলে ওই নারীকে ধর্ষণ করে। ফজর আলী চলে যাবার সময় ওই নারীর চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এসে তাকে আটক করে এবং মারধর করে। এসময় কয়েকজন ওই নারীর বিবস্ত্র ভিডিও ধারন করে। আহত অবস্থায় অভিযুক্ত ফজর আলীকে নিয়ে তার স্বজনরা পালিয়ে যায়। পরদিন শুক্রবার ফজর আলীকে একমাত্র আসামী করে মামলা দায়ের করে ভুক্তভোগী নারী।
জানা গেছে, টাকা ধার নেয়া নিয়ে ফজর আলী ভুক্তভোগীর পরিবারের পূর্ব পরিচিত ছিল। ফজর আলীকে আটকের সময় কয়েকজন যে ওই নারীর বিবস্ত্র ভিডিও ধারন করেছে সেটি আইনশৃঙ্খলাবাহনীকে জানানো হয়নি বলেও জানিয়েছে পুলিশ।