মাঠে খেলা নেই। কাটছে অলস সময়। ঘর থেকে বের হওয়ারও সুযোগ নেই। কিন্তু এভাবে তো বসে থাকা যায় না। তাদের যেমন মাঠে খেলা নেই ঠিক তেমনি করোনাভাইরাসের প্রভাবে পাতে খাবার নেই অনেক সুবিধাবঞ্চিত মানুষের। মানুষ সেভাবে ঘর থেকে বের হচ্ছে না বলে রিকশাচালকদের ট্রিপও কমে গেছে আশঙ্কাজনক হারে। তাই তো সমাজের সুবিধাবঞ্চিতদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। পেসার রুবেল হোসেন অসহায় মানুষের হাতে খাবার তুলে দিয়েছেন। মাশরাফী বিন মোর্ত্তজাসহ জাতীয় দলের ২৭ ক্রিকেটার তাদের এক মাসের বেতনের অর্ধেক দান করছেন করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য। এবার অসহায় মানুষের অন্ন জোগাতে এগিয়ে এসেছেন জাতীয় দলের দুই ফুটবলার। ফরোয়ার্ড বিপলু আহমেদ এবং আরিফুর রহমান চেষ্টা করছেন নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়াতে।
ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে কোনো ব্যস্ততা নেই। ক্লাবের ক্যাম্পও বন্ধ। তাই সিলেটে ফিরে গেছেন জাতীয় দল ও বসুন্ধরা কিংসের ফরোয়ার্ড বিপলু। সেখানে দরিদ্র মানুষের সেবায় নেমেছেন নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী নিয়ে। চাল, ডাল, আলু, তেলসহ নানা কিছু প্যাকেট করে অসহায়দের হাতে তুলে দিয়েছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে বিপলু বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে সব কিছু বন্ধ। যারা দিন আনে দিন খায় তারা বেশি বিপদে পড়েছে। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তারা কাজ করতে পারছে না। তাই আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী যতটা পেরেছি করেছি। সমাজে যারা সামর্থ্যবান আশা করছি প্রত্যেকে এই অসহায়দের সাহায্যে এগিয়ে আসবেন। সবাই মিলিতভাবে যদি আমরা এগিয়ে আসি তাহলে সুবিধাবঞ্চিতদের কষ্ট অনেকটাই লাঘব হবে।’
কুমিল্লার বিবিরবাজারে বাড়ি জাতীয় দল ও সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের লেফট উইঙ্গার আরিফুর রহমানের। নিজ গ্রাম ছাড়াও কুমিল্লা শহরে এসে দরিদ্রদের সাহায্য করতে মাস্ক দিয়ে মুখ ঢেকে পথে নেমেছেন তিনি। চাল, ডাল, আলু তেলভর্তি প্যাকেট প্রায় অর্ধশত সুবিধাবঞ্চিতের হাতে তুলে দিয়েছেন তিনি। এমন মহতী উদ্যোগ নেওয়ার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আরিফুর বলেন, ‘অসহায় মানুষের অবস্থা দেখে নিজেই সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছি। নিজের সীমিত সামর্থ্যে যতটুকু পেরেছি করছি তাদের জন্য।’
গরিব মানুষের হাতে খাবার তুলে দেওয়ার একটা ভিডিও এসেছে আরিফুরের ফেইসবুক পেজে। খাবার বিতরণের সময় তার সঙ্গে থাকা স্থানীয় ফুটবলাররা এটা ভিডিও করেছেন। আরিফুর বলেন, ‘আমি প্রথমে এটা ফেইসবুকে দিতে চাইনি। পরে ভাবলাম আমার উদ্যোগ দেখে যদি সবাই উদ্বুদ্ধ হয়। বলতে বাধা নেই, বিপলু ভাইকে এমন একটা উদ্যোগ সিলেটে নিতে দেখে আমি উদ্বুদ্ধ হয়েছি।’
দুই ফুটবলারই ঘরে থেকে করোনাভাইরাস বিস্তার রোধে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।