POPULAR BD NEWS
Popular BD News Logo

নোয়াখালীতে পুলিশকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার তিন

পপুলার বিডিনিউজ রিপোর্ট - চাঁদপুর | প্রকাশিত: অক্টোবর ১২, ২০২৪ | সময়: ৫:৫৯ অপরাহ্ণ

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানায় হামলা, অগ্নিসংযোগ, পুলিশকে জবাই করে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ৩ আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আদালতে আসামিরা তাদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন-নাইম হোসেন (২১) ইমাম হোসেন ওরফে ইমন (২২) নাহিদুল ইসলাম (১৬)। তারা সবাই সোনাইমুড়ী উপজেলার বাসিন্দা।

রোববার সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আবদুল্লাহ আল ফারুক।

পুলিশ সুপার জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে সোনাইমুড়ীর বাইপাস বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গত ৫ আগস্ট সোনইমুড়ী থানায় হামলা ও নৃশংস হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত আসামি নাইম হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যমতে তার মোবাইল ফোনের ডায়াল লিস্ট পর্যালোচনা করে নিহত পুলিশ কনস্টেবল মো.ইব্রাহিমকে হত্যার সঙ্গে জড়িত আসামি ইমাম হোসেন ওরফে ইমনের হেফাজত থেকে নিহত পুলিশ কনস্টেবলের ব্যবহৃত মোবাইল উদ্ধার করা হয়।

পরে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় একই দিন সন্ধ্যার দিকে  একই উপজেলার জয়াগ ইউনিয়নের ভাওরকোট এলাকা থেকে আসামি ইমাম হোসেন ওরফে ইমনকে গ্রেফতার করা  হয়। ওই সময় তার থেকে একটি টেকনো স্পার্ক মোবাইল জব্দ করা হয়। উক্ত মোবাইল ফোনে ম্যাসেঞ্জারে জনৈক ওমর ফারুক নামক আইডির ব্যক্তির কাছে পাঠানো ইমনের ঘটনার দিন পুলিশ হত্যার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক ভয়েস রেকর্ড পাওয়া যায়। হামলার সময় ঘটনাস্থলে থেকে পুলিশ কনস্টেবল মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে হত্যার সঙ্গে জড়িত নাহিদুল ইসলাকে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, গ্রেফতারকৃত নাহিদুল জিজ্ঞাসাবাদে জানায় আসামিরা গত ৫ আগস্ট সোনাইমুড়ী থানায় হামলা ও সংঘাতে জড়িত। প্রত্যেকেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। বেআইনি জনতাবদ্ধ হয়ে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দাঙ্গারূপ ধারণ করে পুলিশের কর্তব্যকাজে বাধা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশকে মারধর ও গুলি করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম, জবাই করে হত্যা, অগ্নিসংযোগ, চুরি ও সরকারি মালামালের ক্ষতিসাধানের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল। আসামি নাইম হোসেন, ইমন পুলিশের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত বলে জানায় নাহিদুল ইসলাম।

পুলিশ জানায়, সোনাইমুড়ী থানায় আক্রমণ পরবর্তীতে প্রাণ ভয়ে জীবন রক্ষার্থে পলায়নরত পুলিশকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে থানার পিছনে থানার সীমানা প্রাচীরের কাছে অপেক্ষা করে আসামিরা। পুলিশ কনস্টেবল মোহাম্মদ ইব্রাহিম নীল রংয়ের পুলিশের টি-শার্ট পরিহিত অবস্থায় সীমানা প্রাচীরের নীচ দিয়ে টিনের বেড়ার ফাঁক দিয়ে বের হওয়া নাহিদুল ইসলাম তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বাধা দেয়। এরপর এইতো পুলিশ বলে মারধর শুরু করে। সঙ্গে সঙ্গে ইমাম হোসেন ইমন দৌঁড়ে এসে হাতে থাকা কাঠের লাঠি দিয়ে আঘাত করে।

কনস্টেবল ইব্রাহিম গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে অপর আসামিরা সকলে একযোগে হত্যার উদ্দেশ্যে তার পুরো শরীরে উপর্যুপুরি আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশ কনস্টেবল মোহাম্মদ ইব্রাহিমের পকেট থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ও আইডি কার্ড ও টাকাসহ ম্যানিব্যাগ নিয়ে নেয় নাইম। পরবর্তীতে পুনরায় আসামিরা এসে উপর্যুপুরি আঘাত করে ইব্রাহিমের মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে তাকে চার হাত পা ধরে ঝুলিয়ে রাস্তায় নিয়ে টানা হেঁচড়া করে সারা শরীর ক্ষতবিক্ষত করে রেলক্রসিংয়ে কাছাকাছি রেখে উল্লাসে মত্ত হয়।

ঘটনার পরবর্তীতে আসামি ইমাম মোবাইল ও টাকা ভাগ চাইলে আসামি নাইম তাকে পরে যোগাযোগের মাধ্যমে দিবে বলে ইমনের মোবাইল নাম্বারে নিজ মোবাইল থেকে কল করে। কিন্তু মোবাইলে ব্যালেন্স না থাকায় আসামি ইমাম হোসেন ইমনের মোবাইলে কল না গেলেও আসামি নাইম হোসেনের উল্লেখিত জব্দকৃত মোবাইলের ডায়াল লিস্টে আসামি ইমনের মোবাইল নাম্বারটি কল লিস্টে থেকেই যায়।

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) আরও বলেন, গ্রেফতার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে পরিকল্পিত হত্যার বিষয়টি স্পষ্ট ও প্রাথমিকভাবে স্বাক্ষ্য প্রমাণ সম্বলিত। আসামিরা আদালতে দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে।

পপুলার বিডিনিউজ | বস্তুনিষ্ঠতা প্রকাশে দুরন্ত
কার্যালয়: কেনাকাটা মার্কেট, ৪র্থ তলা, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।
নিউজ ও বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৬-৪৬৯৫০৫ | ইমেইল: newspopular2020@gmail.com

© 2026 পপুলার বিডিনিউজ — অনুমতি ছাড়া লেখা/ছবি/ভিডিও ব্যবহার বেআইনি
প্রিন্ট করুন