দেশে ইলিশের সর্ববৃহৎ অবতারণ কেন্দ্র চাঁদপুর মাছঘাট। চলমান পরিস্থিতিতে ইলিশের সরবরাহ কম, পরিবহন সংকটে কমেছে কেনা- বেচা । অন্যদিকে কারফিউ ও ইনটারনেট বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন ইলিশ ব্যবসায়ীরা।
জুলাই-আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে ইলিশের ভরা মৌসুম। তবুও দেখা নেই চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর ইলিশের। সাগরের ৬৫ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় চাঁদপুর মাছঘাটে ট্রলারে আসা ইলিশে চাহিদা মেটানো হচ্ছে। তবে কোটা আন্দোলন ও কারফিউতে কমেছে ইলিশের সরবরাহ। কমেছে ক্রেতা।
মাছঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে সরগরম। কিন্তু চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম। তাই বাজারে যোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছেন বেপারীরা। ফলে ক্রেতা সামাল দিতে ব্যস্ত ব্যবসায়ীরা। তবে সরবরাহ
কম থাকার প্রভাব পড়েছে ইলিশের দামে।
মাছঘাটের ব্যবসায়ীরা শনিবারের ইলিশের দাম নির্ধারণ করেছেন, ৮’শ থেকে ৯’শ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতিকেজি ১৩’শ থেকে ১৪’শ টাকা। এছাড়া এক কেজি ওজন ও এর চাইতে বেশী ওজনের প্রতি কেজি ইলিশ
বিক্রি হচ্ছে ১৪’শ থেকে ১৭’শ টাকা।
হাজীগঞ্জ থেকে ইলিশ ক্রয় করতে আসা হেলাল উদ্দিন বলেন, ইলিশ ঘাটেই ইলিশের দাম বেশি। তার উপর কোনটা চাঁদপুরের আর কোনটা হাতিয়া, সন্দ্বিপের সেটা বুজা মুশকিল।
অনলাইনে ইলিশ বিক্রেতা খাঁন এন্টারপ্রাইজের গিয়াস উদ্দিন বিপ্লব বলেন, ভরা মৌসুমে ইলিশ কম। তবে অনলাইন-অপ লাইনে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাজারে মাছের দাম এখনও হাতের নাগালে আসে নাই। ইন্টারনেটের কারণে অনলাইন উদ্যোক্তরা অনলাইনে ইলিশ বিক্রি বন্ধ রয়েছে।
সাগর থেকে চাঁদপুরে ইলিশ নিয়ে আসা ব্যবসায়ীরা জানান, সাগরে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ। তবুও মিলছে না কাঙ্খিত ইলিশ।
ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় বেশি ক্ষতি সম্মুখীন হতে হয়েছে অনলাইন ব্যবসায়ীদের। ভরা মৌসুমে ইলিশের দাম নাগালের বাহিরে বলছেন ক্রেতারা।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগামী সপ্তাহে ইলিশের সরবরাহ বাড়বে, কমবে দাম দাবী চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির।
চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শবেবরাত জানান, মাছ বিক্রি করলে টাকা আসছেনা। ব্যবসা বন্ধের পথে। এখনও পরিবেশ ঠিক হয়নি। চাঁদপুরের বাইরে দেশের অন্য কোথাও ইলিশের বাজার ধরা কঠিন হয়ে পড়েছে। আর্থিক সঙ্কটের মুখে মাছ ব্যবসায়ীরা।