চলছে ইলিশের ভরা মৌসুম। এই মৌসুম ঘিরে জেলেদের জালে সাগর নদীতে ধরা পড়ছে প্রচুর ইলিশ। যার বড় একটা অংশ দেশের অন্যতম প্রধান ইলিশের পাইকারি বাজার চাঁদপুর বড়স্টেশন মাছঘাটে এনে চলছে বেচাকেনা। আর এই ইলিশ কিনতে প্রতিদিন সারাদেশের প্রচুর ক্রেতার ভিড় লেগেই আছে। নতুন করে গত ১১ সেপ্টেম্বর থেকে এই বাজারে ইলিশ কিনতে যোগ হয়েছে ভারতীরা।কারণ দেশের অভ্যন্তরে যেমনি চাঁদপুরের পদ্মা মেঘনার তাজা রূপালী ইলিশের চাহিদা রয়েছে, তেমনি বিশ্ব জুড়েও রয়েছে।

সোমবার চাঁদপুর মাছঘাটে গিয়ে দেখা যায়,মাছঘাটের পাশেই রেলের পরিত্যক্ত জায়গায় তাবু টানিয়ে টনে টনে বড় আকারের ইলিশ স্তুপ করে প্যাকেটজাত করা হচ্ছে। পাশেই ডাকাতিয়া নদীতে নৌপথে ভোলার জেলেরা বড় বড় ট্রলারে করে শতশত মণ ইলিশ নামাচ্ছেন।ভোলার মনপুরার কয়েকজন জেলে জানান, তারা গতকাল প্রায় তিনটি বিশাল ট্রলারে করে প্রায় ৩০০মণ ইলিশ এনে এই মাছঘাটে বিক্রি করেন। আরেকপাশে নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে সড়ক পথে ট্রাকে ট্রাকে শতশত মণ ইলিশ আসে।পরে এসব ইলিশ মাছঘাটের ভেতরে আড়তদাররা ডাক তুলে বিক্রি করেন। তা কিনতে স্থানীয় ক্রেতাদের পাশাপাশি সারাদেশের ক্রেতারাও ভিড় করেন।
স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান কালু ভুইয়া বলেন,চাঁদপুর মাছঘাটে বর্তমান প্রতিদিন গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০মণ ইলিশ বেচা কেনা হচ্ছে। তারমধ্যে ভারতেই প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে দেড়শ মণ ইলিশ চলে যাচ্ছে। এতে স্থানীয় বাজারে দামে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। কারন তারা ১ কেজির উপরের ইলিশটাই বেশি নিয়ে যাচ্ছে।যার প্রতি কেজি ৮০০ থেকে সাড়ে ৮০০ টাকা পড়ছে। ভারতীয় ক্রেতার প্রতিনিধি সফিউল্লাহ জানান,তারা ১৭৫টন মাছ ভারতে পাঠানোর অনুমোদন পেয়েছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর থেকে তারা এলসির মাধ্যমে চাঁদপুর মাছঘাট থেকে প্রতিদিন গড়ে ৫টন করে ইলিশ সড়ক পথে বেনাপোল দিয়ে ভারতে পাঠাচ্ছেন।গতকাল ৫ অক্টোবর সোমবারও তারা ৫টন ইলিশ পাঠিয়েছেন।কিন্তু এর কোনো সঠিক হিসেব স্থানীয় বাজারের কোনো ব্যবসায়ী এমনকি সরকারি কেউই দিতে পারেননি।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করে চাঁদপুর জেলা মৎস্য অফিসে বা মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটে এর কোনো তথ্য বা পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকী বলেন,আমরা শুনেছি বানিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ভারতে কিছু ইলিশ পাঠনোর অনুমোদন দিয়েছে। তবে এর লিখিত কোনো কিছু তাদের জানা নেই। একই কথা বললেন মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড.আনিসুর রহমান। চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মো.মাজেদুর রহমান খান বলেন,ভারতে ইলিশ রপ্তানীর ব্যাপারে আমরাও কিছু জানিনা।