সড়ক দূর্ঘটনায় আহত হওয়ার পরের দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন হাজীগঞ্জের মো. কামরুল হাসান (২৩)।
সোমবার (২৭ মে) সকালে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। এর আগে গতকাল রোববার বিকালে কচুয়া উপজেলার কালিয়াপাড়া-কচুয়া সড়কের রহিমানগর এলাকায় মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত স্কুটারের সংর্ঘষে তিনি গুরুতর আহত হন।
নিহত কামরুল হাসান কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার উনকোট গ্রামের মো. আব্দুল কাদের সওদাগরের বড় ছেলে। জম্মসূত্রে সে তার পরিবারের সাথে হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন ৬নং ওয়ার্ডের মকিমবাদ গ্রামের সর্দার বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন।
কামরুল হাসান চাঁদপুর সরকারি কলেজে অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। পরিবারে তার বাবা, মা, বড় বোন ও ছোট ভাই রয়েছে।
জানা গেছে, কামরুল হাসান পরিবারের বড় ছেলে হওয়ায় জীবিকার তাগিদে পড়ালেখার পাশাপাশি সে একটি বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিসে কর্মরত ছিলেন। গতকাল রবিবার বিকেলে কুরিয়ারের পার্সেল নিয়ে কচুয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে হাজীগঞ্জ থেকে মোটরসাইকেল যোগে রওনা হলে পথিমধ্যে রহিমানগর এলাকায় সিএনজিচালিত একটি স্কুটারের সাথে তার মোটরসাইকেলে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
এ সময় মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পেয়ে গুরুতর আহন হন কামরুল হাসান। পরে ওই এলাকার লোকজন তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেপার করেন। এরপর ওইদিন রাতেই তার ব্রেইনের অপারেশন করে নিবিড় পর্যবেক্ষন রাখেন চিকিৎসক। পরের দিন আজ সোমবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কামরুল হাসান।
তার মৃত্যুর খবর পেয়ে পরিবারের মাঝে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। সোমবার দুপুরে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, ছেলেকে হারিয়ে বার বার মুর্চা যান হতভাগা মা। তিনি ছেলের শোকে পরিচিত-অপরিচিত সকলের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকেন এবং কিছুক্ষণ পর পর জ্ঞান হারান।
পরিবারের লোকজন জানান, আইনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে কামরুল হাসানের মরদেহ নিয়ে আসবেন হতভাগা বাবা মো. আব্দুল কাদের সওদাগর এবং আজ সন্ধ্যায় জানাযা শেষে নিজ জন্মস্থানের পারিবারিক কবর স্থানে তাকে দাফন করা হবে।