POPULAR BD NEWS
Popular BD News Logo

গীবত থেকে বেঁচে থাকলে যে উপকার পাবেন

পপুলার বিডিনিউজ ডেস্ক - চাঁদপুর | প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৬, ২০২৩ | সময়: ৫:৫৭ অপরাহ্ণ

ইসলামের দৃষ্টিতে গীবত বা পরনিন্দা মারাত্মক গুনাহগুলোর একটি। গীবতের ভয়াবহতা সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘আর তোমরা একে অপরের গীবত করো না। তোমাদের কেউ কি এটা পছন্দ করবে যে, সে তার মৃত ভাইয়ের গোশত খাবে। নিশ্চয়ই তোমরা এটাকে অপছন্দ করবে। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চই আল্লাহ তায়ালা সিমাহীন ক্ষমাকারী এবং দয়ালু।’ ( সূরা হুজরাত, আয়াত, ১২)

হাদিসে গীবতের ভয়াবহতা

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘ব্যভিচার করার পর মানুষ আল্লাহর কাছে তওবা করলে আল্লাহ তায়ালা তওবা কবুল করেন। কিন্তু গীবতকারী ব্যক্তিকে যে পর্যন্ত ওই ব্যক্তি (যার গিবত করা হয়েছে) ক্ষমা না করে; ততোক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন না।’ (মিশকাত)।

অপর এক হাদিসে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি তার দুই চোওয়ালের মাঝের অঙ্গ (মুখ) এবং দুই রানের মধ্যবর্তী অঙ্গ (লজ্জাস্থান) হেফাজতের দায়িত্ব নিবে আমি তার জন্য জান্নাতের দায়িত্ব নিব।- (সহীহ বুখারী, হাদিস, ৬১০৯)

এজন্য গীবত থেকে বেঁচে থাকা জরুরি। যে ব্যক্তি গীবত থেকে নিজেকে রক্ষা করবে, সে বিশেষ কিছু উপকার পাবে। এখানে গীবত থেকে বেঁচে থাকার কিছু উপকার তুলে ধরা হলো-

গীবত থেকে বেঁচে থাকার উপকার

>> গীবত করা মুসলমানের গোশত খাওয়ার সমতুল্য অপরাধ। যে ব্যক্তি গীবত থেকে বেঁচে থাকে সে এই জঘন্য পাপ থেকে রক্ষা পাবে।

>> জেনা করার থেকে মারাত্মক গীবত করা। যে ব্যক্তি গীবত ত্যাগ করলো সে এই মারাত্মক পাপ থেকে নিজেকে রক্ষা করলো।

>> গীবতের কারণে রোজার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতও নষ্ট হয়ে যায়। যে ব্যক্তি গীবত থেকে বিরত থাকে সে নিজের রোজাকে হেফাজতের চেষ্টা করে থাকে।

>> গীবতের কারণে অজু ক্ষতিগ্রস্থ হয়। হানাফি মাজহাব মতে কোনো ব্যক্তি অজু করার পর গিবত করলে বা মিথ্যা বললে আবারো নতুন করে অজু করা উচিত।

ইবরাহিম নাফাঈ রহ. বলেন, দুটি কারণে অজু নষ্ট হয়। ১. পেশাব পায়খানার রাস্তা দিয়ে কিছু বের হলে। ২. কোনো মুসলমানকে কষ্ট দিলে। (বায়হাকী)

আম্মাজান হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বলেন, ঘুমের কারণে যেভাবে অজু নষ্ট হয়, ঠিক একিভাবে মিথ্যাচার ও গীবতের কারণেও অজু নষ্ট হয়। ( দুররে মানসুর)

তাই যে ব্যক্তি গীবত থেকে বিরত থাকলো সে নিজের অজুকে রক্ষা করলো। আর ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত নামাজ ও কোরআন স্পর্শ করে তিলাওয়াতের জন্য অজু আবশ্যক। অজু ছাড়া এই ইবাদতগুলো পালন করা যায় না।

গুনাহ থেকে বাঁচার ১০ কৌশল

>> পবিত্র কোরআনে গীবতকে হারাম বলা হয়েছে। তাই কোনো ব্যক্তি গীবত থেকে বিরত থাকলে হারাম কাজ অর্থাৎ, কবিরা গুনাহে লিপ্ত হওয়া থেকে বেঁচে গেল।

>> গীবতের মাধ্যমে অন্যকে আঘাত করা হয়। সুফিয়ান সাওরি রহ, বলেছেন, আমি কোনো ব্যক্তির গীবত করার থেকে তাকে তীর দিয়ে আহত করাকে সহজতর অপরাধ মনে করি। তাই যে ব্যক্তি গীবত ত্যাগ করলো সে অন্যকে আহত করা থেকে বিরত থাকলো।

>> যে ব্যক্তি নিজের বাকশক্তি নিয়ন্ত্রণ না করে অন্যের গীবত করে বেড়ায়, সে মানুষের কাছে অপমানিত হয়। তাই গীবত থেকে বিরত থাকলে নিজেকে অপমানের হাত থেকে রক্ষা করা যায়।

>> গীবত থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে নিজের অন্তরকে পরিচ্ছন্ন ও নির্মল রাখা যায়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘মুমিন যখন কোনো গুনাহে রকাজ করে তখন তার অন্তরে একটি কালো দাগ পড়ে যায়। (ইবনে মাজা)

তাই গীবত থেকে বেঁচে থাকলে অন্তরে দাগ পড়া থেকে বেঁচে থাকা যায়। এতে করে অন্তর স্বচ্ছ থাকে।

>> যে ব্যক্তি অন্যের গীবত করে না, সে কিয়ামতের দিন লজ্জিত ও অপমানিত হবে না। কারণ সে মানুষের মান-সম্মানে হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থেকেছে।

Ni/N

পপুলার বিডিনিউজ | বস্তুনিষ্ঠতা প্রকাশে দুরন্ত
কার্যালয়: কেনাকাটা মার্কেট, ৪র্থ তলা, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।
নিউজ ও বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৬-৪৬৯৫০৫ | ইমেইল: newspopular2020@gmail.com

© 2026 পপুলার বিডিনিউজ — অনুমতি ছাড়া লেখা/ছবি/ভিডিও ব্যবহার বেআইনি
প্রিন্ট করুন