নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলায় স্ট্রোক করে নুরুল ইসলাম (৭০) নামে এক হাজতির মৃত্যু হয়েছে। মৃত নুরুল ইসলাম চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার অটোমর গ্রামের বাসিন্দা।
গেলো ৩০ অক্টোবর অটোমর গ্রামের জায়েদ আলীর স্ত্রী বিলকিস আক্তার কচুয়া থানায় একটি নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে নুরুল ইসলামকে বাদী করে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর বৃদ্ধা নুরুল ইসলাম কে আটক করে কচুয়া থানা পুলিশ। আটকের পর চাঁদপুর বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।
মামলা সূত্রে জানা যায়, আল-আমিনের মেয়ে আফসানা (৫) নামে শিশু কে ধর্ষণের চেষ্টা করে নুরুল ইসলাম।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বিলকিস গংদের সাথে নুরুল ইসলামের সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছিলো। নুরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী ভিক্ষা করে জীবন যাপন করে।
স্থানীয় লোকজন জানান, প্রতিপক্ষরা অসহায় নুরুল ইসলামের বসতঘর ভেঙে ও তার সম্পত্তি দখল করে গাছ রোপণ করে রেখেছে। কয়েকবার শালিসি বৈঠক করেও সমাধান করতে পারিনি। বিলকিস গংরা অনেক বিত্তশালী তারা সমাজের কাউকে তোয়াক্কা করে না।অসহায় নুরুল ইসলামের পরিবারটি কে উচ্ছেদ করে সম্পত্তি দখল করে ভোগ করার উদ্দেশ্যে শিশু ধর্ষণের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে চাঁদপুর জেল হাজতে প্রেরণ করে। জেল হাজতে থাকাকালীন ১৫ নভেম্বর স্ট্রোক করলে জেল কর্তৃপক্ষ চাঁদপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। অবস্থার অবনতি দেখে জেল কর্তৃপক্ষ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতলে প্রেরণ করে।
জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুরুল ইসলাম ২৮ নভেম্বর দুপুরে মৃত্যুবরণ করে। তার মৃত্যুতে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে মনির হোসেন, মেয়ে শেফালী ও সাহিদা জানান, আমরা অসহায় পরিবার। আমাদের বাড়ী ও সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে। ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা মামলা দিয়ে আমার বৃদ্ধ বাবা কে জেলে পাঠিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
এলাকাবাসী কামাল হোসেন মিয়াজী,মাও. নুরুল হক ও ফজলুল হক জানান, নুরুল ইসলাম অত্যন্ত ভালো লোক ছিলেন। তাদের সম্পত্তিগত বিরোধের জেরে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে।বৃদ্ধা নুরুল ইসলাম হত্যার বিচার দাবি করছি। সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার ও তার সম্পত্তি উদ্ধার করতে প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।