হাজীগঞ্জ উপজেলার গন্ধর্ব্যপুর গুচ্ছু গ্রামে বসবাসকারী মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী আফিয়া বেগম। মুক্তিযুদ্ধে স্বামী আবুল কাসেম অংশ নিলেও জীবদ্দশায় পায়নি কোন সরকারী সুযোগ-সুবিধা। এখন স্বামীর কাগজ পত্রনিয়ে বিভিন্ন অফিসের বারান্দা হেঁটে হেঁটেই কেটে যাচ্ছে তার অসহায় জীবন।
তাঁর সাথে দেখা হয় হাজীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের বারান্দায়। এর আগেও তিনি বহুবার সমাজ সেবা, সোনালী ব্যাংক ও ইউএনও অফিসের বারান্দায় এসেছেন। ৬৫ বছর বয়সী এ আফিয়া বেগমের সাথে কথা হয়। তিনি জানান, গত ১০ বছর আগে তার স্বামী মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম মারা যায়। তিনি ৩৫ বছর আগে তাঁর দরিদ্র স্বামী মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাসেম কে নিয়ে গন্ধর্ব্যপুর ( উ:) ইউনিয়নের পালিশারা গ্রাম থেকে স্ব্যামলী গুচ্ছু গ্রামে চলে যান। তিনি পালিশারা ইউছুব আলী মুন্সী বাড়িতে অন্যের একটু জাগায় কোন মতে দো-ছালাঘর করে থাকতেন। পরে সেখান থেকে গন্ধর্ব্যপুর গুচ্ছু গ্রামে চলে যান। সেখানে তার তিন ছেলে এক মেয়ের জন্ম হয়। ছেলেরা বিয়ে করে, মেয়ের বিয়ে হয়ে যায়। অসহায় আফিয়া হয়ে যায় একা। আফিয়া একা হয়ে অনাহার অর্ধাহারে দিন কাটছে তার। আর স্বামীর মুক্তিযোদ্ধা আর সুযোগ সুবিধার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরতে শুরু করে। এ অফিস থেকে ওই অফিস। হাজীগঞ্জ থেকে চাঁদপুর। চাঁদপুর থেকে ঢাকা। এভাবে চলছে তার জীবন। কিন্তু কোন কূল কিনারা পাচ্ছেনা।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বার বার হাজীগঞ্জের ইউএনওর সাথে দেখা করতে গিয়েও নিরাশ হয়ে ফিরে আসছে। আফিয়া বেগম যে ঘরে থাকে, এটি যে কোন সময় ভেঙ্গে পড়তে পারে। রোধ বৃষ্টি উপেক্ষা করে যক্ষা রোগ নিয়ে তার দিনাতিপাত। তাই এ অসহায় মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী আফিয়া বেগম স্থানীয় সাংসদ ও ইউএনওর সহায়তা কামনা করছেন।
