হাজীগঞ্জের আলোচিত বাপ্পী হত্যা মামলায় সন্দেহজনক চারজনকে গ্রেফতার করে চাঁদপুর বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেছে পিবিআই। গ্রেফতারকৃতরা হলো হাজীগঞ্জ পৌরসভার রান্ধুনীমুড়া বৈষ্ণব বাড়ির গৌতম চন্দ্র সাহা (২৭), একই বাড়ীর জীবন সাহা নিরব ওরফে সাগর (২৫), অন্তু সাহা (২৯) ও লাকসামের বাসিন্দা বর্তমানে মকিমাবাদ সেবাশ্রমে বসবাস করা সুকেশ কান্তি চৌধুরী (৪৩)।
গত ১৬ অক্টোবর রাতে তাদেরকে রান্ধুনীমুড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত সুকেশ ও গৌতমের মধ্যে রাতে চার ঘন্টায় ২১ বার কথোপকোথন হয়। পিবিআই মঙ্গলবার তাদের আদালতে সোর্পদ করলে তাদেরকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করে বিজ্ঞ আদালত।
পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা আমির হোসেন পপুলার বিডিনিউজকে জানান, গ্রেফতারকৃতরা ঘটনার সাথে জড়িত হওয়ার বিষয়টি এখনো স্বীকার করেনি। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য দশ দিনের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।
গেলে ২০২১ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারী দিবাগত রাতে আবু বক্কর বাপ্পি (৩২) কাউকে কিছু না বলে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ে। পরে বাসার সামনে নিজেদের এলপিজি পাম্প হইতে ১০/- টাকা নেয়। বাপ্পী পাম্প হইতে টাকা নেওয়ার পর একা একা হাটতে হাটতে পূর্ব দিকে চলিয়া যায়। রাত সাড়ে নয়টায় গ্রেফতারকৃত আসামী গৌতম সাহা বাপ্পীর বাবা সেলিম মিয়ােকে ফোন করে। গৌতম ফোনে জানায়,তার বাবার চায়ের দোকানে গিয়ে বাপ্পী গৌতমকে খোঁজ করে। ঘটনার তিনদিন পর গ্রেফতারকৃত আসামী গৌতম সাহা এর বাড়ির সামনে পুকুরে বাপ্পীর মৃতদেহ ভেসে উঠে।
পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা আমির হোসেন পপুলার বিডিনিউজকে বলছেন, মামলার তদন্তকালে বাদীর এজাহার পর্যালোচনায় ঘটনাস্থলের আশেপাশের লোকজনদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ, মোবাইলের কললিষ্ট ও তদন্তে সন্দেহ হওয়ায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামী সুকেশ ও গৌতম বাদী সেলিম মিয়ার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার হিসাবে দীর্ঘদিন যাবৎ কর্মরত ছিল।
পিবিআই জানায়, আবু বক্কর বাপ্পি তার বাবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের হিসাব নিকাশ নিতে গেলে হিসাবে গরমিল হতো। আসামী গৌতম ও সুকেশের সাথে বাপ্পীর মনোমালিন্যসহ একাধিকবার কথা কাটাকাটি হয়। এলপিজি পাম্প এর দুই দিনের হিসাব বুঝাইয়া দেওয়ার জন্য বাপ্পী ফোন করলে আসামী গৌতম বাপ্পীর সাথে খারাপ আচরণসহ করে।
তদন্তকালে তাদের গতিবিধি আচার আচরণ এবং মামলার ঘটনার সময় তাহাদের রহস্য জনক গতিবিধি সন্দেহ জনক, মোবাইলের কললিষ্ট সংগ্রহ পূর্বক পর্যালোচনা করে পিবিআই।
পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, ঘটনার দিন ঘটনার তারিখ ও সময়ের আগে পরে গ্রেফতারকৃত আসামী সুকেশ এবং গৌতমের মধ্যে রাত ০৮.৪৬ হইতে ১২.৩৫ পর্যন্ত উভয়ের মধ্যে ২১ বার কথোপকোথন হয়। যা অস্বভাবিক।
কললিষ্ট পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, আসামী সুকেশ ভিকটিম বাসা হইতে বাহির হওয়ার পর গৌতমকে ফোন
করে। আসামী গৌতম তখন মামলার ঘটনাস্থল এলাকায় ছিল। গৌতম সুকেশ এর নিকট হইতে ফোন পাওয়ার পর ভিকটিম ঘটনাস্থলে আসার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য হাজীগঞ্জের দিকে আগাইয়া যায়। ভিকটিম হেটে হেটে দক্ষিণ দিকে অর্থাৎ মামলার ঘটনাস্থলে দিকে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হইয়া আসামী গৌতম ভিকটিমের আগে মামলার ঘটনাস্থলে গিয়া উপস্থিত হয়।
মামলার তদন্ত সমাপ্ত না হওয়ায় পর্যন্ত জেল হাজতে আটক রাখার আর্জি জানায় পিবিআই। পপুলার বিডিনিউজ, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।