“সকল ঈদের সেরা ঈদ’ ঈদে মিলাদুন্নবী” হাজীগঞ্জে ৩৫তম পবিত্র জশনে জুলুসে ঈদে মিলাদুন্নবী(দ:) উদযাপন উপলক্ষে আনন্দ র্যালী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মরহুম আল্লামা সৈয়দ জাহান শাহ্ মোজাদ্দেদীর সু-যোগ্য সন্তান আল্লামা সৈয়দ মাখদুম শাহ্ মোজাদ্দেদী’র নেতৃত্বে হাজারো সুন্নী জনতার উপস্থিতিতে ঈদে মিলাদুন্নবী(দ:) উদযাপন করে।
মঙ্গলবার বিকালে হাজীগঞ্জ পৌরসভার ধেররা আবেদীয়া মোজাদ্দেদী দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ থেকে র্যালী বের হয়ে হাজীগঞ্জ পূর্ব বাজার প্রদক্ষিণ শেষে পূনরায় দরবারে এসে দোয়াও মোনাজাতের মাধ্যমে সমাপ্তি হয়।
চাঁদপুর জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আহসান উল্লাহ্’র সার্বিক তত্বাবধানে আলোচনা ও দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন সৈয়দ মাখদুম শাহ মোজাদ্দেদী।
উল্লেখ্য: ৫৭০ সালের এই দিনে মানবজাতির জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত মহানবী হযরত মুহম্মদ (সা.) এর শুভ আবির্ভাবের দিন।
এ দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে পবিত্র ঈদ-এ মিলাদুন্নবী (সা.) নামে পরিচিত। ৫৭০ সালের এই দিনে আরবের মক্কা নগরীর সভ্রান্ত কুরাইশ বংশে মা আমিনার কোল আলো করে জন্ম নিয়েছিলেন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)।
এক সময় গোটা আরব অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। তারা আল্লাহকে ভুলে গিয়ে নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়ে পড়েছিল। আরবের সর্বত্র দেখা দিয়েছিল অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা। এ যুগকে বলা হতো আইয়ামে জাহেলিয়াত।
তখন মানুষ হানাহানি ও কাটাকাটিতে লিপ্ত ছিল এবং করত মূর্তিপূজা। এই অন্ধকার যুগ থেকে মানবকুলের মুক্তিসহ তাদের আলোর পথ দেখাতে মহান আল্লাহতাআলা রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রেরণ করেন এই ধরাধমে।
মহানবী (সা.) অতি অল্প বয়সেই আল্লাহর প্রেম অনুরক্ত হয়ে পড়েন এবং প্রায়ই তিনি হেরা পর্বতের গুহায় ধ্যানমগ্ন থাকতেন। ২৫ বছর বয়সে মহানবী (সা.) ধনাঢ্য বিবি খাদিজার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। মাত্র ৪০ বছর বয়সে তিনি নবুয়ত লাভ করেন। আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভ করেন।
পবিত্র কোরআনে বর্ণিত আছে, ‘মহানবীকে সৃষ্টি না করলে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পৃথিবীই সৃষ্টি করতেন না’। এসব কারণে এবং তৎকালীন আরব জাহানের বাস্তবতায় এ দিনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনেক বেশি। বাংলাদেশসহ বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায় এ দিনটি ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) হিসেবে উদযাপন করে থাকে।