চার বছর বালু উত্তোলনের ২৬৭ কোটি টাকা দিতে ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম খানকে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসকের ডিসির চিঠি। ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ২১টি মৌজা থেকে সেলিম খান ৬৬৮ কোটি ৩৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৮৫ ঘনফুট বালু তুলেছেন। হাইকোর্ট বিভাগের একটি রিট আবেদনের রায়ের ভিত্তিতে প্রতি ঘনফুট বালুর বিপরীতে ৪০ পয়সা রাজস্ব নির্ধারণ করা হয়। এই হিসাবে ২৬৭ কোটি ৩৩ লাখ ৩১ হাজার ৮৩৪ টাকা জমা দিতে বলেছে জেলা প্রশাসন।গত ৪ সেপ্টেম্বর এক চিঠিতে অনতিবিলম্বে এই টাকা জমা দিতে বলা হয়।
বৃহস্পতিবার রাত নয়টায় জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান জানান, কোষাগারে এখনো কোন টাকা জমা দেননি ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম খান।
উচ্চ আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনার ডুবোচর থেকে ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বালু তোলার বিপরীতে (রয়্যালটি আদায়) ওই টাকা দিতে বলা হয়। জেলা প্রশাসনের চিঠিতে বলা হয়, সরকারি কোষাগারে টাকা জমা না দিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সেলিম খান চাঁদপুর সদর উপজেলার ১০ নম্বর লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। তিনি মেসার্স সেলিম এন্টারপ্রাইজের মালিক। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি পদ্মা ও মেঘনার ডুবোচর থেকে বালু তুলেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করার অভিযোগ রয়েছে।
সেলিম খানকে চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২২ সালের আগস্ট মাসে জেলা বালুমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় চার বছরে সেলিম খানের প্রতিষ্ঠান মেসার্স সেলিম এন্টারপ্রাইজ কী পরিমাণ বালু তুলেছে, এর বিপরীতে সরকারি কোষাগারে কত টাকা জমা দিতে হবে, তা নির্ধারণ করতে একটি উপকমিটি গঠন করা হয়। বিভিন্ন জরিপ ও প্রযুক্তির মাধ্যমে উপকমিটি চার বছরে সেলিম খান কী পরিমাণ বালু তুলেছেন, তা নির্ধারণ করে।
গত দুই বছর ধরে চাঁদপুরের সেলিম খানকে ‘বালুখেকো’ হিসেবে বিভিন্ন মিডিয়ায় তুলে ধরে আসছে। চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেছিলেন, সেলিম খান একসময় জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। জোট সরকারের আমলে তিনি বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে ওঠাবসা করতেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য (চাঁদপুর-৩) ও বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিতি পান। এর পর থেকে এলাকায় বালু তোলার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠেন সেলিম খান।
বৃহস্পতিবার রাত নয়টায় সেলিম খানের মুঠফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। কবে নাগাদা এই টাকা জমা দিবেন এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।