পরিবারের বরণপোষণ জোগাড় করতেন রাজ মিস্ত্রি কাজ। চালাতেন নিজের পড়াশোনার খরচও। দীর্ঘ ১২ বছর হার না মানা এক জীবন যুদ্ধ থেমে যাচ্ছে শুধু মাত্র শিক্ষকদের অবহেলায়। রাজমিস্ত্রী মেহেদী হাসান বসতে পারবেন না এবারের এইচএসসি পরিক্ষায়।
মেহেদী হাসান হাজীগঞ্জ উপজেলা মধ্য বলাখাল তুলাতল সর্দার বাড়ীর দিনমজুর রফিকুল ইসলামের ছেলে। উপজেলার বলাখাল নূর-ই-মদিনা নেছারিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে মেহেদী হাসান’সহ ১৮জন এইচএসসি পরীক্ষার্থী যথাসময়ে ফরম ফিলাপের জন্য সাড়ে তিন হাজার টাকা জমা দেন। এর মধ্যে ১৭জন পরিক্ষার্থীর ফরম ফিলাপ হলেও রাজমিস্ত্রী মেহেদী হাসানের হয় নি ফরম ফিলাপ। শিক্ষকদের অবহেলায় মেধাবী শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান এবার সুযোগ পাচ্ছে না এইচএসসি পরীক্ষা অংশ নেওয়ার।
ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান জানান, ফরম ফিলাপ ফি জমা দেয়ার কয়দিন পর মাদ্রাসার দু’জন শিক্ষক বাড়িতে এসে ফরম ফিলাপ ফি ফেরত দেয়। ফেরত দেয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে পরের বার পরিক্ষা দেয়ার কথা বলে। হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ায় রাজমিস্ত্রী কাজ করে পরিবার ও নিজের পড়াশোনার খরচ চালাতে হয়। অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করে ১২ বছর ধরে একই প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়নরত রয়েছেন। শিক্ষকদের অবহেলায় ১২ বছরের স্বপ্ন শেষ হওয়ার পথে। এবার যদি এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পারে তাহলে আর পড়াশোনা হবে না। তাই তিনি প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি কামনা করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা সহযোগিতা কামনা করেন।
ভুক্তভোগীর বাবা দিনমজুর রফিকুল ইসলাম জানান, ১২ বছরের সকল স্বপ্ন তার ছেলেকে নিয়ে ধূলিসাৎ হয়ে গেলো। এখন নিরুপায় হয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।
মেহেদী হাসানের সহপাঠীরা বলেন, মাত্র ১৮জন এইচএসসি পরীক্ষার্থী হওয়ায় সত্বে এতজন শিক্ষক দায়িত্ব নিতে হবে কেনো ফরম ফিলাপের জন্য। এই কয়জন শিক্ষার্থী তালিকা দিতেও ভুল হয় বিষয়টি দুঃখজনক।
এ বিষয়ে কথা হয় বলাখাল নূর-ই-মদিনা নেছারিয়া আলিম মাদ্রাসার শিক্ষক কামরুল হাসান ও গিয়াস উদ্দিনের সাথে। তারা বলেন, ফরম ফিলাপের বিষয়টি একাধিক শিক্ষকের উপর দায়িত্ব দেয়ায় আমাদের এ ভূল হয়েছে। সে জন্য মাদ্রাসার সকল শিক্ষকদের পক্ষ থেকে অনুতপ্ত শিকার করেন।
প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মাহবুবুল হাসান অসুস্থ থাকায় তাঁর বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়ে উঠে না।
মুঠোফোনে কথা হয় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে তিনি জানান, এ বিষয়ে আমরা জেনেছি। এবং তাদেরকে শিক্ষকদের সহ শিক্ষা বোর্ডে যাওয়ার কথা বলেছি। তারপরও আমরা আমাদের মতো চেষ্টা করবো।