POPULAR BD NEWS
Popular BD News Logo

কচুয়ায় মালটা চাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন মিজানুর রহমান

শান্তুু ধর | প্রকাশিত: জুলাই ২৪, ২০২৩ | সময়: ৭:০৫ অপরাহ্ণ

কচুয়ায় মালটার চাষ করে ভাগ্য বদলের চেষ্টায় মাল্টা গাছের পরিচর্চা করছেন প্রবাস ফেরত মিজানুর রহমান। তিনি উপজেলার গোহট ইউনিয়নের নূরপুর গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন সৌদি আরব কর্মজীবন শেষে দেশে এসে ২০০৭ সালে ১১ লাখ টাকা ব্যয় করে ১৮টি দেশী-বিদেশী জাতের গরু নিয়ে খামার গড়ে তোলেন তিনি। দুধ বিক্রি করে সংসার চালিয়েছেন কয়েক বছর।

একসময় আয় কমে আসে। বিপাকে পড়েন তিনি। দীর্ঘদিন গাঁধা খাটুনি করে লাভের মুখ দেখে উঠতে পারেননি গরুর বিভিন্ন জটিল রোগের কারণে। এক সময় তা বন্ধ করে দেন। এখন গরুর খামারে ২টি দেশি জাতের গরু পালন করছেন পরিবারের দুধের চাহিদা মিটানোর জন্য। শুরু হয় দুঃশ্চিন্তা। কী করবেন, এ ভাবনা পেয়ে বসে তাকে। শুরু হয় ইন্টারনেট, ইউটিউবে ঘাঁটাঘাঁটি। সব দেখে সিদ্ধান্ত নেন সবজি ও মালটা চাষের। সরেজমিনে গেলে কথা হয় প্রবাস ফেরত মালটা চাষী মিজানুর রহমানের সাথে।

 

তিনি জানান, প্রবাসে থাকাকালীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইউটিউবে শাক সবজিসহ বিভিন্ন জাতের ফলফলাদির চাষ দেখেছি। দেশে এসে যখন গরুর খামার করে লাভবান হতে পারিনি তখন সিদ্ধান্ত নেই আমার ৫৪ শতক জমিতে শাক-সবজি চাষের। পরে কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজী প্রোগ্রাম (এনএটিপি-০২) প্রকল্পের আওতায় ২০২০ সালের ১৬ আগস্ট ১ বিঘা পতিত জমিতে ১৬০টি (বারিজাত ০১) মালটা গাছের চারা (কলম চারা) রোপন করি। প্রতিটি গাছ ১০ ফুট দুরত্বে রোপন করা হয়েছে। গাছের ফাঁকের সারি গুলোতে হলদি, আঁদা, পেঁয়াজ ও বিভিন্ন সবজির চাষ করছি। বাগানের সীমানায় শতাধিক সুপারির গাছ লাগিয়েছি। যা দিয়ে আমার পরিবারের চাহিদা মিটিয়েও স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে পারছি। মালটা গাছগুলোতে এখন ফল দেয়ার সময় হয়েছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের কর্মকর্তারা সব সময় খোঁজ খবর নিচ্ছেন।

কখন কোন সার দিতে হবে, কোন ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে তা রীতিমত তাঁরা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন । এছাড়া মিজানুর রহমানের বসত বাড়ির বাগানে রয়েছে দার্জেলিং ও মেন্ডারিন জাতের ২৪টি কমলা গাছ রয়েছে। গাছগুলোতেও ফুল এসেছে। আরেকটি বাগানে রয়েছে ৫টি (চায়না ৩) জাতের লিচু গাছ, ১২টি ড্রাগন ফল গাছ, ১টি মিষ্টি জলপাই গাছ ও বেশ ক’টি কাঁঠাল গাছসহ বিভিন্ন ফলফলাদি ও ওষুধি গাছ। সবমিলিয়ে প্রবাস ফেরত মিজানুর রহমান এখন যেন একজন বৃক্ষপ্রেমি হয়ে উঠেছেন। তিনি আরো জানান, বর্তমানে বিভিন্ন শাক-সবজি বিক্রি করে সংসার মোটামুটি চলছে। মালটা, ড্রাগন ও কমলালেবু ধরা শুরু করলে সংসার আরো ভালো চলবে এবং আমার স্বপ্ন পূরণ হবে।

এ ব্যপারে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোফায়েল হোসেন বলেন, আমাদের এ এলাকা বারিজাত ০১ জাতের মালটা চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় পরীক্ষা মূলকভাবে ফল বাগানের প্রদর্শনী হিসাবে কৃষক মিজানুর রহমানকে একটি মালটা প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছে। সফল হলে ওনার দেখাদেখি অন্য কৃষকরাও মালটা চাষে উদ্বুদ্ধ হবে।

পপুলার বিডিনিউজ | বস্তুনিষ্ঠতা প্রকাশে দুরন্ত
কার্যালয়: কেনাকাটা মার্কেট, ৪র্থ তলা, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।
নিউজ ও বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৬-৪৬৯৫০৫ | ইমেইল: newspopular2020@gmail.com

© 2026 পপুলার বিডিনিউজ — অনুমতি ছাড়া লেখা/ছবি/ভিডিও ব্যবহার বেআইনি
প্রিন্ট করুন