POPULAR BD NEWS
Popular BD News Logo

৭৫ বছরে বিয়ে, ধরেছেন সংসারের হাল

পপুলার বিডিনিউজ ডেস্ক - চাঁদপুর | প্রকাশিত: এপ্রিল ২৩, ২০২৩ | সময়: ১:২১ পূর্বাহ্ণ

ভোলার সদর উপজেলার রাজাপুরের আবদুল গফুর ব্যাপারী (৭৫) মিজিবাজার জামে মসজিদ থেকে শনিবার সকাল ৯টার দিকে যখন ঈদুল ফিতরের নামাজ পড়ে যখন বের হলেন, তখন তাঁর চোখেমুখে আনন্দের ঝিলিক। মেজাজ ফুরফুরে দেখে সবাই কেমন আছেন, জানতে চাইলে একগাল হেসে বলেন, ‘ভালা আছি।’

চা খাওয়ানোর কথা বলে জোর করে সবাই তাঁকে চায়ের দোকানে নিয়ে যায়। চায়ের দোকানে বসে চা খান। এরপর পান চিবাতে চিবাতে হেঁটে বাড়ির দিকে রওনা হন।

আবদুল গফুরকে নিয়ে সবার কৌতূহলের কারণ সম্প্রতি তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। দ্বিতীয় বিয়ে অনেকেই করেন। কারণ, এই বয়সে অনেকই রোগে আক্রান্ত হয়। শুয়ে-বসে সময় কাটান। দ্বিতীয় বিয়ে তো অনেক দূরের কথা।

এখনো তিনি অনেক পরিশ্রমের কাজ করেন, রস সংগ্রহের খেজুরগাছ কাটেন, ছাগল পালেন। এই বয়সেও তাঁর দৃষ্টিশক্তি ভালো আছে। চশমা ছাড়াই পত্রিকা পড়তে পারেন।

৭৫ বছর বয়সেও তারুণ্য ধরে রাখা আবদুল গফুরের বাড়ি ভোলার সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের মিজিবাজার এলাকায়। এই বয়সেও নিজের আয় দিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। জাতীয় পরিচয়পত্রে তাঁর জন্মতারিখ ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ।

গ্রামবাসী ও আবদুল গফুরের সঙ্গে কথা বলে ও সরেজমিন দেখে জানা যায়, আবদুল গফুর প্রতিদিন মসজিদে জামাতের সঙ্গে ফজরের নামাজ আদায় করেন। তারপরে কোনো দিন ৩০টি, কোনো দিন ২৫টি খেজুরগাছে উঠে রসের হাঁড়ি সংগ্রহ করেন সূর্য ওঠার আগে। সেই রস বিক্রি করেন। তারপর বাড়িতে এসে নাশতা-পানি খেয়ে, ছাগল-গরু নিয়ে মাঠে বের হন। দুপুরে বাড়িতে ফিরে গোসল করে জোহরের নামাজ সেরে দুপুরের খাবার খেয়ে সামান্য বিশ্রাম নেন। বিকেল হলে খেজুরগাছ কাটতে বের হন। গাছ কাটার মধ্যে সময় বের করে আসরের নামাজ আদায় করেন।

সন্ধ্যার আগেই গরু-ছাগল নিয়ে বাড়িতে ফেরেন এবং গবাদিপশুর খড়কুটো কেটে দিয়ে বের হন মিজিবাজারের উদ্দেশে। বাজারের মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায় করে পল্লিচিকিৎসক আমির হোসেনের দোকানে বসেন। ততক্ষণে ভোলা থেকে আসা হকার ওই দোকানে  পত্রিকা দিয়ে যান। সেই খবরের কাগজ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়েন। খবরের কাগজ পড়তে পড়তে এশার আজান দেয়। এশার নামাজ পড়ে বাড়িতে ফিরে ঘুমিয়ে পড়েন।

পল্লিচিকিৎসক আমির হোসেন বলেন, ‘দাদা (আবদুল গফুর) যখন খালি চোখে পেপার পড়েন, তখন তাঁর চারপাশে অশিক্ষিত কিছু পাঠক-শ্রোতা বসেন গোল হয়ে। দাদা তখন জোরে জোরে খবর পাঠ করেন। যাঁরা পড়তে পারেন না, তাঁদের শোনার জন্য। নতুন পেপার পড়েন, যাওয়ার সময় পুরোনো পেপারটি নিয়ে যান। বাড়িতে বসে ভেতরের খবরগুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়েন। আবার পরের দিনে ফেরত নিয়ে আসেন।’

মিজিবাজারের বাসিন্দা রুহুল আমিন আবদুল গফুরের আরেকটি গুণের কথা জানালেন। তিনি বলেন, আবদুল গফুর সুর করে সুন্দরভাবে পুঁথি পাঠ করতে জানেন। তরুণ বয়সেই নিজ বাড়ি বরিশাল মেহেন্দীগঞ্জ থেকে ভোলায় কৃষিকাজ শুরু করেন আবদুল গফুর। রাত হলে খেতের মধ্যে গড়ে তোলা ছোট ঘরে কুপিবাতি জ্বালিয়ে কৃষিশ্রমিকদের চারপাশে বসিয়ে পুঁথি পড়ে শোনাতেন। সেই পুঁথি শুনে দক্ষিণ রাজাপুরের হাওলাদার বাড়ির এক মেয়ে আবদুল গফুরের প্রেমে পড়েন। এরপর ওই মেয়ের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। সেই স্ত্রী বছর দুই আগে মারা যান।’

আবদুল গফুর  ‘প্রথম স্ত্রীর সংসারে আমার তিন মেয়ে ও দুই ছেলে আছে। বিয়ের পরেছেলে-মেয়েদের আলাদা সংসার। তাঁদের মা মারা যাওয়ার পর একা হয়ে পড়ি। তাই মাস ছয়েক আগে ছেলেরাই বিবি হনুফার (৪৮) সঙ্গে আমার বিয়ে দেয়। এই বয়সে এসে একা একা চলা যায় না। তাই ছেলেদের আবদার আর ফেলতে পারিনি।’

আবদুল গফুর আরও বলেন, ছেলেরা আলাদা হয়ে গেছেন। তাই মেয়ে-জামাই, নাতি-নাতনিরা এলে তাঁদের খালি মুখে ফেরত পাঠাতে হতো। কিন্তু এখন নতুন বউ ঘরে আসার পর এবার ঈদে মেয়ে-জামাই, নাতি-নাতনিরা বেড়াতে এসেছেন। তাঁদের ভালোমন্দ খাইয়েছেন, ঈদের বকশিশ, জামাকাপড় দিয়েছেন। তাঁরাও খুশি, তিনিও খুশি।

আয়ের উৎস কী, জানতে চাইলে আবদুল গফুর বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ! ভালো আছি। নিজের বাড়ি ছাড়াও ৬৪ শতাংশ কৃষিজমি আছে। ছাগল আছে ৮-১০টি। বাড়িতে ফলগাছ আছে। কাঠগাছ আছে। পুকুর আছে। নিজে খেজুরগাছ কাটেন। সংসার ভালোই চলছে। তিনি বয়স্ক ভাতাও পান।

রাজাপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. মাসুদ রানা বলেন, আবদুল গফুর একজন পরিশ্রমী ব্যক্তি। তাঁর ছাগলের খামার আছে। তিনি সম্প্রতি বিয়ে করেছেন। সব মিলিয়ে ভালো আছেন।

নতুন সংসারে কেমন আছেন, জানতে চাইলে আবদুল গফুরের স্ত্রী হনুফা বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে নতুন সংসারে খুব ভালো আছি।’

এই বয়সেও কর্মক্ষম আছেন কীভাবে, জানতে চাইলে আবদুল গফুর বলেন, তিনি সব সময় হাসিখুশি থাকেন। বাজারঘাটে এলে মানুষের সঙ্গে হাসির কথা বলেন। জোকস বলেন। তিনি আরও বলেন, ছোটবেলা থেকে তিনি আনন্দের সঙ্গে কঠোর পরিশ্রম করেন। কাজকে ভয় করেন না। নিজে আনন্দে থাকেন, অন্যকে আনন্দে রাখেন। নিয়ম করে সব কাজ করেন এবং নিয়ম করে খাবার খান। তাই আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন।

সূত্র: প্রথম আলো

E/N

পপুলার বিডিনিউজ | বস্তুনিষ্ঠতা প্রকাশে দুরন্ত
কার্যালয়: কেনাকাটা মার্কেট, ৪র্থ তলা, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।
নিউজ ও বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৬-৪৬৯৫০৫ | ইমেইল: newspopular2020@gmail.com

© 2026 পপুলার বিডিনিউজ — অনুমতি ছাড়া লেখা/ছবি/ভিডিও ব্যবহার বেআইনি
প্রিন্ট করুন