প্রেমের দ্রোহ
জানি না মোর মনপাড়ায় কতটুকু প্রেম ছিল?
কতটা প্রেমসিক্ত মনে তোমাকে দেখেছি,
জানি না কতটা বিষন্নতা নিয়ে বেঁচে আছি,
আমার জীবন এখন প্রেমের চিতায় জ্বলছে।
কত বসন্ত এলো আর গেল,
কত শরৎতের কাশফুল ফুটেছিল।
কত অমাবস্যা ও পূর্ণিমা এলো আর গেল
কত সমুদ্রের ঢেউ আমাকে তাড়না দিয়েছিল।
তবুও তোমার প্রেমের রোমাঞ্চকর পৃথিবী থেকে,
আমি এতটুকুও বিচ্ছিন্ন হইনি অথবা ছেড়ে যাইনি।
অশ্রুমাখা চোখে অনুতপ্ত, তবুও তোমাকে দেখছি,
ফুলের পাপড়ির নির্যাসে তোমার দেহাবশেষ,
এখন, অন্য প্রেমের লোকালয়ে শয্যাশায়িত।
অস্থির আমার প্রেম, এখন অন্য ফেরারী পথে
করুনচিত্তে দেখছি প্রেমিকার মৃতদেহ।
বুকের বহরে একঝাঁক বেদনায় আবৃত হয়ে,
লুটিয়ে পড়লো আমার প্রেমের দ্রোহ।
হঠাৎ একদিন
হঠাৎ একদিন দেখা হবে নির্যাস সন্ধ্যায়
যেখানে থাকবে জীবনের শেষ সীমানা,
সমুদ্রের কলহ স্রোতের কান্নার আওয়াজে
অন্ধকারে ডুবে মরবে আমার জীবন।
সন্ধ্যা ফেরিয়ে গভীর রাত হবে
গভীর রাত ফেরিয়ে সকাল আসবে
কেউই আমার মৃত দেহটাকে দেখতে আসবে না।
ক্ষত-বিক্ষত অবস্থায় পড়ে থাকবে আমার দেহ।
গোলাপের পাপড়ির ছড়ানো নির্যাস
আমার মৃত দেহটাকে নিশিপদ্ম করে তুলবে।
নীড়ের পাখিদের মিষ্টিমধুর কলকাকলি,
আমাকে প্রতিশোধপ্রবনতা করে তুলবে।
সমুদ্রের বাধাঁহীন তীর্যক প্রকম্পিত ঢেউ
প্রতিবাদী করে তুলবে আমার দেহটাকে।
শ্বাশত কন্ঠে পূর্ণজাগরণ হবে আমার দেহ
আমার চিৎকারে বিমূর্ষ হবে যুদ্ধক্ষেত্র।
এভাবেই রচয়িতা হবে অমরালোক ইতিহাস
আমি জেগে উঠবো, তর্জ্জনী হবো হঠাৎ একদিন।
দহন
বিষণ্ণতার সংকটে দেহের অসীম দাহন
এখন, শতাব্দী ধরে অনাগ্রত জ্বলছে।
উপেক্ষা এবং প্রতীক্ষায়
বেড়ে যাচ্ছে দেহের প্রশস্ততা।
দুঃখ আর কষ্টে,
মাটিচাপা হচ্ছে জীবনের দাহন।
বুক থেকে পাজর
অসীম থেকে গহীন
এই লোহমর্ষক নগরে
দেহখানা জ্বলে পুড়ে একাকার।
বছর থেকে যুগ,
শতাব্দী থেকে মহাকাল,
জীবনের ব্যবধানে
দুঃখের আস্ফালনে,
ছাইভষ্ম হোক নিথর দেহ।
জন্মাত্মক কপাল পুড়ছে
ভাগ্যের বিভীষিকায়,
সুখ কিংবা কষ্ট
এখন, পতিত হৃদয় হয়ে,
পুড়ছে দেহের দহনে।