দিনমজুর সুমন আর হানিফ সিএনজি চালক। দুই জনে হাজীগঞ্জ পৌরসভার বলাখাল মিয়াজী বাড়ীর বাসিন্দা। সবাই ঈদের প্রস্তুতি নিলেও তাদের দুই পরিবারে এখন পুলিশ আতংক।
সবার মতো হইহুল্লুড় শব্দে গত ২রা এপ্রিল রাতে একই বাড়ীর প্রবাসী আবদুল খালেকের বসতঘরের সামনে যান তারা। সেখানে পুলিশ ও এলাকাবাসী মিলে প্রবাসীর বসতঘর থেকে তার স্ত্রী সালমা ও পাশ্ববর্তী বাড়ীর নয়ন পালকে বের করে।
ওইসময় নয়ন পালকে তার পরিবারের কাছে তুলে দেয়া হয়। ঘটনার দুইদিন পর এলাকাবাসী ওই ঘটনাকে আড়াল করতে সালমা বেগমের সাজানো মামলার খবর পান। দুই দিনমজুরকে আসামী করায় এলাকায় ক্ষোভ প্রকাশ ও তীব্র নিন্দার ঝড় উঠে।
শুক্রবার সকালে প্রবাসীর স্ত্রী সালমার দায়ের করা সুমন ও হানিফের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে প্রত্যাহারের দাবীতে মানবন্ধন করেছে এলাকাবাসী।
মানববন্ধনে সালমার শ্বাশুড়ীসহ নিকাটাত্মীয়দের অংশ নিতেও দেখা মিলেছে।
সালমার শ্বাশুড়ি খাদিজা বেগম জানান, ঘটনার রাতে দুলাল পালের ছেলে নয়ন পালকে পুত্রবধূর বসতঘর থেকে বের করা হয়। ওইসময় কোন মারামারি ঘটনা ঘটেনি। তার নাতি সুমন ও হানিফের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
প্রতিবেশী বিল্লাল ও আবু তাহের বলেন, ওই রাতে সালমার বসতঘরে তার আত্মীয় স্বজনসহ নয়ন পালের দেখা মিলে। অথচ নিরীহ সুমন ও হানিফের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। সঠিক তদন্তের দাবী তাদের।
নয়ন পালের বাড়ীতে গিয়ে জানা গেলো সে মাস্টার্সে পড়ে। এলাকায় পড়াশোনার ফাঁকে টিউশনি করে। শুক্রবার তাকে বাড়ীতে পাওয়া যায়নি। তাবে তার মা তুলসী পাল ও ভাবী সুবর্না জানান, নয়নকে রাতে ফোন করে ডেকে নিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছে প্রবাসীর স্ত্রী সালমা। নয়নের কোন দোষ নেই। এদিকে সালমার মামলায় নয়ন পালের মা তুলসী বেগমকে স্বাক্ষী রাখার বিষয়েও কিছুই জানেন না তারা।
জানতে চাইলে সালমা বেগম এখন কোন কিছুর উত্তর দিতে রাজি নন। ঘটনার রাতে মরামারির ঘটেনি। মামলার এজহারে তার মাথায় রক্তাক্ত জমখ উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলেও তিনি পরে কথা বলবে বলে জানান।
উল্লেখ্য, গত ৪ এপ্রিল চাঁদপুর আমলী আদালতে দুই দিনমজুরকে বিবাদী করে হত্যাচেষ্টার মামলা দেয় প্রবাসীর স্ত্রী সালমা বেগম।
B/Ni/N