গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল থানার মাজুখানে দাঁতের ব্যথায় আক্রান্ত হয়ে একটি ডেন্টাল কেয়ার ক্লিনিকে যান এক নারী। ব্যাথাযুক্ত নষ্ট দাঁত না উঠিয়ে ভালো দাঁত উত্তোলন করে রোগীর হাতে ধরিয়ে দেন কথিত ডেন্টিস্ট ইমরান হোসাইন (২৩)।
ভুক্তভোগী রুবিনা টঙ্গী পূর্ব থানার ৪৩নং ওয়ার্ডের বিসিক ফকির মার্কেট এলাকার ফয়সাল ইসলামের স্ত্রী।
ভুক্তভোগী বলেন, আমার বোন ডা. রাকিবুল হাসানের কাছে চিকিৎসা করত। আমার বোনের পরামর্শে ডা. রাকিবুলের কাছে এসেছিলাম। রাকিবুল না থাকায় অভিযুক্ত ইমরান হোসাইন আমাকে বলেন আমিই যথেষ্ট। একসময় ইন্ডিয়ায় দাঁতের চিকিৎসা করেছি। উনার কথায় রাজি হয়ে আমার ভালো দাঁত হারিয়ে ব্যথা সহ্য করতে পারছি না। ভালো দাঁত তুলে হাতে ধরিয়ে দেয়। ডাক্তারের ফিস নেন ১ হাজার ৫০০ টাকা। ভুয়া ডাক্তারের বিচার চাই।
কথিত দাঁতের ডাক্তারের নেই কোনো সনদ। মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি পাশ করেছেন। টেনে-টুনে দুবারে এইচএসসি পাশ করেছেন। কিন্তু কোনোটার সনদ দেখাতে পারেননি। কোন ডেন্টাল কলেজে পড়েছেন সেটিও বলতে পারেননি। উনার ভিজিটিং কার্ড ও প্রেসক্রিপশনে রীতিমতো ডেন্টিস্ট ইমরান হোসাইন নাম ব্যবহার করছেন। রোগী প্রতি ভিজিট নেন ৫০০ টাকা। সেই মতে প্রেসক্রিপশনে উনার নামের পাশে টিক চিহ্ন দিয়ে রীতিমতো ওষুধ লিখে দিয়ে নিজে স্বাক্ষরও করছেন।
অভিযুক্ত কথিত ডা. ইমরান হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি নিজেই মালিক। ট্রেড লাইসেন্স অন্য একটি মহিলা দাঁতের ডাক্তারের নামে। ভিজিটিং কার্ড ও সাইনবোর্ডে যেই ইমরান হোসাইন লেখা সেটা আমি না আমার ডেন্টাল কলেজ ক্যাম্পাসের বড় ভাইয়ের নাম উনিই ডা. ইমরান। আমার নামের সঙ্গে মিল আছে তাই চালিয়ে যাচ্ছি।
সহকারী পুলিশ কমিশনার (জিএমপি) মাকসুদুর রহমান জানান, মঙ্গলবার মামলা রেকর্ড হয়েছে। ভুয়া ডেন্টিস্টকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
Ni/N