হিমালয়কন্যা নেপালে ইতিহাস গড়েছেন বাংলার নারী ফুটবলাররা। গর্বিত করেছেন জাতিকে, ভাসিয়েছেন আনন্দে। কাল বুধবার দেশে ফিরছেন সেই বীর ফুটবলাররা। তাঁদের এই ঘরে ফেরা রাঙাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার, দেশের মানুষ। তাঁদের জন্য ছাদখোলা বাসের ব্যবস্থা করছে সরকারের পরিবহন সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। এর মাধ্যমে নারী ফুটবলারদের একটা আক্ষেপও হয়তো ঘুচবে।
ফাইনালের মঞ্চে নামার আগে সানজিদা ফেসবুকে লেখেন, ‘যাঁরা আমাদের এই স্বপ্নকে আলিঙ্গন করতে উৎসুক হয়ে আছেন, সেই স্বপ্নসারথিদের জন্য এটি আমরা জিততে চাই। নিরঙ্কুশ সমর্থনের প্রতিদান আমরা দিতে চাই। ছাদখোলা চ্যাম্পিয়ন বাসে ট্রফি নিয়ে না দাঁড়ালেও চলবে, সমাজের টিপ্পনীকে এক পাশে রেখে যে মানুষগুলো আমাদের সবুজ ঘাস ছোঁয়াতে সাহায্য করেছে, তাদের জন্য এটি জিততে চাই।
আমাদের এই সাফল্য হয়তো আরও নতুন কিছু সাবিনা, কৃষ্ণা, মারিয়া পেতে সাহায্য করবে। অনুজদের বন্ধুর এই রাস্তাটুকু কিছু হলেও সহজ করে দিয়ে যেতে চাই।’
কাল কৃষ্ণা ও সানজিদারা যখন বাংলাদেশে ফিরবেন, তখন বিমানবন্দরে তাঁদের অভ্যর্থনা জানাবেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কর্তারা। সড়কেও হয়তো থাকবেন ফুটবলপ্রেমীরা। তাঁদের অভিবাদনের জবাব নারী ফুটবলাররা ছাদখোলা বাস থেকেই দিতে পারবেন।
গতকাল সোমবার ম্যাচ শেষে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘সাবিনাদের আক্ষেপ দেখে আমাদের অন্তরে ব্যথা লেগেছে। আমাদের দেশে যদিও ছাদখোলা কোনো বাস নেই ঢাকায়; তারপরও আমরা তাদের জন্য একটা ব্যবস্থা করেছি। তাদের ছাদখোলা বাসে বিমানবন্দর থেকেই সংবর্ধনা আমরা দেব। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাফুফে ভবন পর্যন্ত তাদের আমরা নিয়ে যাব। তাদের মনের আশা পূরণ করব।’
বিআরটিসির বাসটির ছাদ উঠিয়ে ফেলা হচ্ছে, বিআরটিসির চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘নারী ফুটবল দল জাতিকে একটা বড় উপহার দিয়েছে। জাতি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। আমরা তাদের উদ্যাপনে সঙ্গী হতে পেরে গর্বিত।’ তিনি আরও বলেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় প্রস্তাব দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা কাজ শুরু করেছেন। আজ রাতের মধ্যে বাস পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে যাবে। আশা করছেন, তাঁদের এই প্রচেষ্টা নারী ফুটবল দল ও ফুটবলপ্রেমীদের জন্য কিছুটা হলেও আনন্দ দেবে।
সূত্র:প্রথম আলো
N/N