চলতি বর্ষার মৌসুমেও ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে জেলেদের জালে মিলছে না ইলিশ। সারা দিন মাছ শিকার করে সন্ধ্যায় ৫০ টাকা করে ভাগে পেয়েছেন কয়েকজন জেলে। নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পাওয়ায় কুরবানি ঈদ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।
একদিকে ঈদে পশু কুরবান অন্যদিকে ঈদের দিন সেমাই, নুডুলস, চাল, মসল্লা ক্রয় ও পরিবারের ছোট-ছোট শিশুদের নতুন পোশাক কিনে দেওয়াও অনিশ্চিত হয়ে পরেছে তাদের। জেলেদের দাবি এ বছর ইলিশ মৌসুমে ভালো মাছ শিকার করতে না পেয়ে তারা অনেক কষ্টে রয়েছে।
ভোলা জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ভোলার সাত উপজেলা প্রায় দেড় লাখ জেলের সরকারিভাবে নিবন্ধন রয়েছে। কিন্তু বেসরকারি হিসেবে জেলের সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ। এদের মধ্যে আবার সরকারি নিষেধাজ্ঞার সময় নিবন্ধিত জেলেদের মধ্যে প্রায় ৫০-৬০ ভাগ জেলে সরকারি বরাদ্দের চাল পান।
ভোলা সদর উপজেলার বিভিন্ন মৎস্য ঘাটে সরেজমিন দেখা গেছে, আসন্ন কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে অনেক জেলে তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নদীতে ইলিশ শিকার করতে নেমে পরেছেন। কাক ডাকা ভোর থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীতে জাল ফেলে তীরে ফিরছেন হতাশা নিয়ে। আর তাদের জালে যে মাছ উঠে আসছে তা দিয়ে ঠিকমতো তেলের খরচ দিয়ে চাল ক্রয় করার টাকাও থাকেনা।
সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের তুলাতুলি এলাকার জেলে মো. কবীর মাঝি ও একরাম মাঝি জানান, ভোর রাত থেকে বিকাল পর্যন্ত তারাসহ ৮ জন মাঝি মাছ শিকারের নদীতে নেমেছেন। কিন্তু তাদের জালে দুইটি ৭শ গ্রাম ওজনের ও চারটি ছোট সাইজের ইলিশ উঠেছে। তা ঘাটে নিয়ে মাত্র ১ হাজার ৬শ টাকা বিক্রি করেছেন। পরে তেলের দোকানে ১ হাজার ২শ টাকা পরিশোধ করেছেন। আর বাকি ৪শ টাকা ৮ জন ৫০ টাকা করে নিয়েছেন।
সূত্র: যুগান্তর
H/N