মতলব দক্ষিণ উপজেলায় আদালতের নির্দেশে ২ মাস ১০ দিন পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন করেছে প্রশাসন। উপজেলার ঘোনা গ্রামের হাজী বাড়ির কবরস্থান থেকে মুন্সিগঞ্জ বিজ্ঞ সিনিয়র আদালতের নির্দেশক্রমে, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্টেট, মুন্সিগঞ্জ সদর থানা ও মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশের উপস্থিত এ লাশ উত্তোলণ করা হয়।
মতলব দক্ষিণ উপজেলার ঘোনা গ্রামের খলিলুর রহমানর ছেলে মজিবুর রহমান রহমান মুন্সিগঞ্জের সিপাইপাড়া মদিনা প্লাজায় রেস্টুরেন্টের ব্যবসা করতো। ১০ বছর আগে মুন্সিগঞ্জের বল্লোল এলাকায় রিনা বেগম নামে এক নারীকে বিয়ে করে। বিবাহের পর থেকে মজিবুর রহমানকে পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতে দিতেন না স্ত্রী।
২২ এপ্রিল মজিবুর বিদুৎপৃষ্ট হয়ে মারা যান বলে লাশ মতলবে পাঠানো হয়। মজিবুর রহমানের পরিবার তা বিশ্বাস করে লাশ দাফন করেন।
কিন্তু লাশের সাথে মুজিবুরের স্ত্রী না আসায় জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। পরে মজিবুরের বাবা খলিলুর রহমান বাদী হয়ে রিনা বেগম, রেস্টুরেন্টের কর্মচারী শাওন সহ আরো অজ্ঞাত ৬ জনকে আসামী করে মুন্সিগঞ্জ বিজ্ঞ সিনিয়র আদালতে একটি মামলা দায়ের করে। সেই মামলার সূত্র ধরে শনিবার সকালে মজিবুরের লাশ কবর থেকে উত্তোনল করা হয়ে।
নির্বাহী ম্যাজিস্টেট ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, মুন্সিগঞ্জ বিজ্ঞ সিনিয়র আদালত ও চাঁদপুরের সিনিয়র ম্যাজিস্টেটের নির্দেশ ক্রমে মজিবুরের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। ময়না তদন্তের জন্য চাঁদপুর মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে পুনরায় এখানে আবার দাফন করা হবে।
মজিবুরের বোন খাদিজা আক্তার বলেন, ভাইকে ভাবী তার লোকজন নিয়া মেরেছে। তারা মৃত্যুর খবর পর্যন্ত দেয়নি।
এ বিষয়ে মামলার বাদী খলিলুর রহমান ছেলের সম্পত্তি আত্মসাৎ করার জন্য রিনা বেগম, শাওন ও আরো কয়েকজন মিলে পরিকল্পিতভাবে তার ছেলেকে হত্যা করেছে। হত্যা কারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার এবং ফাঁসি চান।