পদ্মার ইলিশ জগৎখ্যাত। পদ্মাপারের জনপদে ইলিশ নিয়ে গর্বের শেষ নেই। চাঁদপুর থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পর্যন্ত পদ্মা যেদিক দিয়ে গেছে, সেসব জেলার মানুষ দাবি করেন, তাঁদের এলাকার ইলিশই সেরা।
চাঁদপুর থেকে দৌলতদিয়া পর্যন্ত পদ্মার দৈর্ঘ্য ৯৫ কিলোমিটার। পদ্মার মোট দৈর্ঘ্য ২৮০ কিলোমিটার। এরপর পদ্মা চাঁদপুরে এসে মেঘনার সঙ্গে মিলিত হয়। মিলিত ধারা মেঘনা নাম নিয়ে সাগরে মেশে।
২০১৮ সালে পদ্মাপারের বিভিন্ন জেলার মানুষের সঙ্গে ইলিশ নিয়ে এই প্রতিবেদকের কথা হয়েছিল। রাজশাহীর প্রবীণেরা বলেছিলেন, ওই এলাকার ইলিশের স্বাদের সঙ্গে অন্য এলাকার ইলিশের তুলনা করা ভুল। দৌলতদিয়া বাজার মৎস্য আড়ত সিমিতির সভাপতি মো. মোহন মণ্ডল বলেছিলেন, পদ্মার ইলিশ মানে আরিচার ইলিশ। আর সে ইলিশ পাওয়া যায় দৌলতদিয়া বাজারে। চাঁদপুরের হারুন মাঝি বলেছিলেন, ‘চাঁদপুরের ইলিশ যে খায় নাই, সে ইলিশই খায় নাই।
ইলিশ ছাড়াও পদ্মায় আরও অনেক ধরনের মাছ পাওয়া যায়। মাছের প্রজাতির জন্য সমৃদ্ধ পদ্মা। বহু ছোট-বড় নদী-খাল পদ্মা থেকে জন্ম নিয়েছে, মিশেছে অনেক। বড় বড় বিলের যোগ আছে পদ্মার সঙ্গে। পদ্মায় আছে মাছের ডিম ছাড়ার পরিবেশ, আর আছে খাবার। ২০১৪ সালের সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (সিইজিআইএস) মূল্যায়ন বলছে, প্রায় ১২০ প্রজাতির মাছের আবাসস্থল পদ্মা। এর মধ্যে আছে কাকিলা (কাইক্কা), ফাসা, কাচকি, চাপিলা, খয়রা, রানি (বউ মাছ), পুইয়া (গুতুম), পইয়া (পুইয়া), মলা (মোয়া), পিয়লি (জয়া), মোরারি, কাতলা, মৃগেল, রাইখোর (রেবা), বাঁশপাতা, বাটা, ভাঙ্গান, কালবাউশ, নান্দিনা, রুই, চেলা, চেলা (কাটারি), ঢেলা, চোলাপুঁটি, কাঞ্চনপুঁটি, সরপুঁটি, জাতপুঁটি, ভাতপুঁটি, তিতপুঁটি, ডারকিনা (ডারকা), খরশোলা, চিতল, ফলৈ, চান্দা, লম্বা চান্দা, রাঙা চান্দা, কই, নাপিত কই, গজার, গাছুয়া (চ্যাং), টাকি, শোল, বেলে, খলিশা, চুনা খলিশা, লাল খলিশা, মেনি, ট্যাংরা, গুলসা ট্যাংরা, বাজারি ট্যাংরা, রিটা, আইড়, গইজা, চেকা, মাগুর, শিং, কাজুলি, ঘাউরা, মুরিবাচা, বাচা, কাটা বাতাসি, শিলং, কানি পাবদা, মধু পাবদা, বোয়াল, বাগাড়, চেনি, গাং ট্যাংরা, বাইম, তারা বাইম, পাকাল বাইম, গোচি, পটকা (টেপা)। এ ছাড়া আছে বেশ কয়েক প্রজাতির চিংড়ি।
H/N