নয় বছরের শিশু নাদিয়া সুলতানা। তারা তিন বোন। বাবা প্রবাসে থাকেন। বছরখানেক আগে তিন কন্যা সন্তানকে রেখে পরকীয়ার টানে উধাও হয়ে যান মা জান্নাত বেগম। বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে গেলেও ছোট দুই মেয়ে পড়েন বিপাকে। মা-বাবা আর বোনদের অনাদরে পড়েন ছোট মেয়ে নাদিয়া সুলতানা। সেই শিশু নাদিয়া সুলতানার ঠাঁই হয় হাজীগঞ্জ পশ্চিম বাজারের ইসলাহুন নিসা মহিলা মাদ্রাসায়। সেখানে তার ভগ্নিপতি আরিফুল হাসান পলাশ তাকে ভর্তি রেখে যান।
হঠাৎ করে গত সোমবার সন্ধ্যায় ওই মাদ্রাসা থেকে সু-কৌশলে মা জান্নাত বেগম এসে শিশুকে নিয়ে চম্পট মারে। এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানায় পরকীয়ায় আসক্ত সেই মায়ের বিরুদ্ধে বড় মেয়ে ছোট বোনকে আপহরণের আভিযোগ দায়ের করেন।
নাদিয়া সুলতানার বোন জামাই আরিফুল হাসান পলাশ বলেন, তার শ্বশুর হাবীব পাটোয়ারী একজন প্রবাসী। শ্বাশুড়ী জান্নাত বেগম তিন মেয়েকে রেখে চাচাতো দেবর শহীদ পাটোয়ারীর সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। তারপর থেকে তিনি অভিভাবক হয়ে নাদিয়া সুলতানার দায়িত্ব নিয়ে গত মাসের ৬ তারিখে ইসলাহুন নিসা মহিলা মাদ্রাসায় ভর্তি করায়। ওইসময় তার খালা শ্বাশুড়ী মরিয়ম বেগমও উপস্থিত ছিলেন।
তিনি আরো জানান, সোমবার সন্ধ্যায় জান্নাত বেগম ও তার ২য় স্বামী শহীদ পাটোয়ারী, মায়া, মরিয়ম বেগম মাদ্রাসায় দেখা করার কথা বলে নানা প্রলোভন দেখিয়ে নাদিয়া সুলতানাকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। বিষয়টি জানতে পেরে আরিফুল হাসান ও তার স্ত্রী উম্মে হাবিবা নাদিয়ার বড় বোন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে তাদের সামনে দিয়ে নাদিয়া সুলতানাকে টেনেহেঁচড়ে নিয়ে যান মা জান্নাত বেগম।
প্রবাসী হাবিব পাটোয়ারী হাজীগঞ্জ পৌরসভার দক্ষিণ বলাখাল পাটোয়ারী বাড়ীর বাসিন্দা।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক আবদুল আজিজ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুকে পাইনি। থানায় আভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইসলাহুন নিসা মহিলা মাদ্রাসার মুহতামিম নাজির আহমেদ বলেন, আরিফুল হাসান ও তার স্ত্রী উম্মে হাবিবার সামনে দিয়ে নাদিয়াকে তার মা জান্নাত বেগম নিয়ে যায়। তারা দুই পক্ষ মাদ্রাসায় হট্রগোল করেন। পুপলার বিডিনিউজ, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।