রমজান মাস সিয়াম সাধনার মাস। মুসলমানরা রমজান মাসের প্রত্যেকদিন রোজা রাখে। একই সঙ্গে রমজান মাস এতেকাফের মাস।
এতেকাফ দুই প্রকারের, শারীরিক এতেকাফ এবং মানসিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক এতেকাফ। শারীরিক এতেকাফে ব্যক্তি নিজেকে আলাদা করে মসজিদে এতেকাফ (অবস্থান) করে, যাতে সে অধিকতর একত্বের সঙ্গে ইবাদত করতে পারে এবং যতটা সম্ভব কুরআন তেলাওয়াত করতে পারে। এটি রমজান মাসে মসজিদের ভেতরে থেকে করা হয়।
এই এতেকাফটি কুরআনের সূরা বাকারায় নিম্নোক্ত শব্দে উল্লেখ করা হয়েছে: وانتم عاکفون فی المساجد অর্থাৎ আপনি যখন এতেকাফ অবস্থায় থাকবেন (২: ১৮৭)।
একই সঙ্গে এতেকাফের আরেকটি রূপ রয়েছে যাকে বুদ্ধিবৃত্তিক এতেকাফ বলা যেতে পারে। বুদ্ধিবৃত্তিক এতেকাফের অর্থ হলো সৃষ্টির মধ্যে চিন্তা-ভাবনা করে স্রষ্টাকে উপলব্ধি করা।
শারীরিক এতেকাফ, মাত্র কয়েক দিন স্থায়ী হয়। কিন্তু বুদ্ধিবৃত্তিক এতেকাফ সারা জীবন চলতে থাকে। এই এতেকাফ সব সময় এবং সর্বত্র চলতে থাকে। এই এতেকাফে মানুষ তার অধিকাংশ সময় চিন্তা-চেতনায় কাটায়। তিনি ধর্মের বিষয়ে ধ্যান করেন এবং তার চারপাশের বিশ্ব থেকে ধর্মীয় পাঠ শিখতে চান। তিনি যথাসম্ভব আধ্যাত্মিক এতেকাফে নিযুক্ত হন।
কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে এই বুদ্ধিবৃত্তিক এতেকাফের উল্লেখ আছে। উদাহরণস্বরূপ, এই আয়াতগুলো দেখুন: আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের পরিবর্তনে বুদ্ধিমান লোকদের জন্য নিদর্শন রয়েছে, যারা দাঁড়িয়ে ও বসে এবং শুয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে, এবং আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে চিন্তাভাবনা করে। তারা বলে: ‘হে আমাদের পালনকর্তা, আপনি এসব উদ্দেশ্যহীনভাবে করেননি, আপনি পবিত্র, অতএব আমাদেরকে আগুনের আজাব থেকে রক্ষা করুন’ (সুরা আলে ইমরান : ১৯০-৯১)।
এক বর্ণনায় এসেছে, নবী (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যারা এই আয়াত তেলাওয়াত করে তারা যেন এতে চিন্তাভাবনা করে। (আল মুয়াজ্জিমুল আকবর আত তিবরানি, ১২৩২২)।
তদ্রুপ অন্যত্র নবী (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আফসোস সেই ব্যক্তির জন্য যে এই আয়াতগুলো পড়ে কিন্তু সেগুলোর প্রতি চিন্তাভাবনা করে না। (সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং. ৬২০)
E/N