সিরাজগঞ্জের তাঁতশিল্প করোনার বিপর্যয়ের পর আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। ঈদে অর্ধহাজার কোটি টাকার বাজার ধরতে তাঁতমালিক শ্রমিকরা হতাশা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে এখন দিনরাত কাপড় তৈরিতে ব্যস্ত।
তাই জেলায় এখন তৈরি হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের জামদানি, সুতি জামদানি, সুতি কাতান, চোষা, বেনারসি, শাড়ি ও লুঙ্গি। শাড়ির ওপরে বর্ণিল সুতা, চুমকির পাশাপাশি প্রিন্ট এবং রঙতুলির আঁচড়ে হাতে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে নান্দনিক মনোমুগ্ধকর নানা নকশা। আর এ নান্দনিক মনোমুগ্ধকর নকশার কাপড় বাংলাদেশ ও ভারতের ঈদের বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে।
জানা যায়, সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর, চৌহালী, বেলকুচিসহ জেলাজুড়ে এখন দিনরাত কারখানার মালিক ও শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় পার করছে। বসে নেই নারীরাও। পুরুষের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নলীভরা, সুতাপারি করা, মাড়দেয়া ও রঙতুলিতে নকশা আঁকাসহ কাপড় বুননোয় সহযোগিতা করছে। কারখানার মালিক ও শ্রমিকদের কোলাহলে সরব হয়ে উঠেছে তাঁতপল্লি। এ অঞ্চলের তাঁতপল্লীতে উন্নতমানের জামদানি, সুতি কাতান, চোষা, সুতি জামদানি, বেনারসি ও শাড়ির পাশাপাশি মোটা শাড়ি, লুঙ্গি, থ্রি-পিস ও থানকাপড় তৈরি হচ্ছে। এসব শাড়ি ও লুঙ্গি দেশের চাহিদা মিটিয়ে এখন ইংল্যান্ড, আমেরিকা, কানাডা, ভারতসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে রপ্তানি হচ্ছে। ঢাকার বুটিক হাউসকে ক্রাফট তাদের পরিবেশকের মাধ্যমে কানাডা ও আমেরিকায় এবং নগরদোলা বুটিক হাউস ইংল্যান্ডে বাজারজাত করছে।
ভারতের কলকাতার কাপড় ব্যবসায়ী গোপাল চন্দ্র সেন জানান, সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের তৈরি কাপড় ভারতের কলকাতা শুভরাজ, গঙ্গারামপুর ও পাটনাসহ বড় বড় শহরে বিক্রয় হচ্ছে। সে দেশের চেয়ে এ দেশের কাপড়ের দাম তুলনামূলক কম, টেকসই এবং উন্নতমানের হওয়ায় তারা এখান থেকে কাপড় কিনছেন।
সূত্র: যুগান্তর
E/N