মতলব উত্তর উপজেলায় তিতার কান্দিতে সার্বজনীন হরি মন্দিরের জায়গা দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। মন্দিরের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নির্মল সরকার মামলা করলে আদালত নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পরে মতলব উত্তর থানা পুলিশ এসে ঘর নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেয়।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের তিতারকান্দি গ্রামের হরি মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০১ সালে। হরি মন্দিরটি হিন্দু ধর্মীয় কল্যান ট্রাস্টের অন্তর্ভুক্ত, যার সনদ নম্বর চাঁদপুর -৮১। মন্দিরের দেবোত্তর জায়গার পরিমাণ আড়াই শতাংশ। ২৪৬৯ নং দানপত্র দলিলের মাধ্যমে নিকাশ সরকার ৩৬৪৮নং দাগে (বিএস ৬১৭, খতিয়ান ৭৬) এক শতাংশ এবং নির্মল সরকার ৩৬৪৭নং (বিএস ৬১৯) দাগে এক শতাংশ দেবোত্তর করে দেন। ৫৪৭২নং দানপত্র দলিলের মাধ্যমে নির্মল সরকার এবং হরেকৃষ্ণ সরকার ৩৬৪৮নং (বিএস ৬১৭,খতিয়ান ৭৬)দাগে আধা শতাংশ দেবোত্তর করে দেন। মূল মন্দির ৩৬৪৮ নং ( বিএস ৬১৭) দাগে এবং নাট মন্দির ৩৬৪৮নং (বিএস ৬১৭)এবং ৩৬৪৭ দাগে (বিএস ৬১৯) অবস্থিত। বিগত কয়েক বছর যাবত নারায়ণ সরকার মন্দিরে বিএস ৬১৭ দাগে আধা শতাংশ বেশি জায়গা জোর পূর্বক দখল করার চেষ্টা করেছে।
এর পরিপ্রক্ষিতে ২০১৭ সালে চাঁদপুর জেলার দায়িত্ব প্রাপ্ত ট্টাস্টি নির্মল পাল বরাবর সাহায্য প্রর্থনা করে আবেদন করা হয় যার অনুলিপি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার , উপজেলা নির্বাহী অফিসার, এবং থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে দিলে নারায়ণ সরকার রুনু কিছু দিন শান্ত থাকে। প্রায় ১বছর পূর্বে নারায়ণ সরকার ৩৬৪৮নং দাগে ৬১৭ বিএস খতিয়ানে মন্দিরের আধা শতাংশের বেশি জায়গা জোর করে দখল করার চেষ্টা করেছে এতে বাঁধা দেওয়ায় সে ৬১৭ বিএস খতিয়ানে ১৪৫ ধারায় মামলা করে পরাজিত হয়েছেন (মামলা নম্বর ৫৮৪) কিছু দিন ধরে নারায়ণ সরকার রুনু আবারও মন্দিরের জায়গা দখল করার চেষ্টা করছে। এর জন্য গত ৩০ মার্চ জেলা প্রশাসক বরাবর জায়গা উদ্ধার করার জন্য সাহায্য চেয়ে আবেদন করে।
নারায়ণ সরকার( রুনু) জোর পূর্বক মন্দিরে জায়গা দখল করে ঘর তৈরি শুরু করে। এতে আশেপাশের বসবাসকৃত ভক্তবৃন্দ বাঁধা দিলে নারায়ণ সরকার এবং তার ছেলে বাঁশ এবং লাঠি নিয়ে তেড়ে আসে। ৩১ মার্চ সকালে সে আবার জোর পূর্বক ঘর তৈরি করা শুরু করলে ভক্তবৃন্দের পরামর্শে মন্দিরের সভাপতি নির্মল চন্দ্র সরকার বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, চাঁদপুর ১৪৫ ধারায় একটি মামলা করেন। যার নম্বর ৪১৬/২০২২। ১ লা এপ্রিল শুক্রবার বিজ্ঞ আদালতের কাগজ থানায় জমা দিলে থানা থেকে পুলিশ এসে কাজ বন্ধ করে দিয়ে যায়। এবিষয়ে নারায়ণ সরকার(রুনুর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘর নির্মাণ আমার জায়গায় করি।আমার বিরুদ্ধে তারা আদালতে মিথ্যা মামলা করে পুলিশ এনে ঘরের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। উক্ত জায়গা আমার ক্রয়কৃত সম্পত্তি।
এ বিষয়ে ইসলামাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন সরকার মুকুল বলেন, আমি ঘটনার বিষয়ে বিভিন্ন ভাবে জানতে পেরেছি। স্বশরীরে গিয়ে তদন্ত করে সমাধানের চেষ্টা করব।