১৬ এপ্রিল ২০১৯। খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ তারিখ নয় যে আপনাকে এটি মনে রাখতেই হবে। তবে তাসকিন আহমেদের মনে রাখার মতোই। তাসকিন সম্ভবত ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টিয়ে লাল কালিতে দাগও কেটে রাখতে পারেন! তাসকিন সত্যিই দাগ কেটেছেন কি না, বড় প্রশ্ন। সঙ্গে প্রশ্ন, তাসকিনের ক্যারিয়ারে কি ওই দিনই সবচেয়ে খারাপ দিন ছিল?
আয়ারল্যান্ডের মাটিতে ত্রিদেশীয় সিরিজ আর ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের স্কোয়াডে জায়গা মেলেনি এই পেসারের। মিরপুরের ব্যস্ততা আড়াল করে তাসকিন কেঁদেছেন শিশুর মতো। সাংবাদিকদের প্রশ্ন কী সামলাবেন, তাসকিন সামলিয়েছেন নিজের কান্নাভেজা চোখ। তাসকিন চোখ মুছতে মুছতে যাওয়ার সময় বলে গেলেন, ‘সবাই যেটা ভালো মনে করেছে, ওটাই করেছে। আমি চেষ্টা করব, ভালো করার…’
তাসকিন চেষ্টা করবেন বলেছেন। আসলেই কি করেছেন? একটু পেছনে যাই। এবার বছর তিনেক আগে নয়, ফিরি মাসখানেক আগে। মার্চের ৬ তারিখে দেখলাম, তাসকিন একটা ভিডিও পোস্ট করেছেন। মার্চের গরমে তপ্ত বালুতে তাসকিন দৌড়াচ্ছেন, ওয়ার্কআউট করছেন। তাতে ক্যাপশন ছিল এমন, ‘যদি আমি কাজ করি, ফল সামনে আসবেই…’
ফল এসেছে। ২৩ মার্চ তাসকিন সেঞ্চুরিয়নের সুপার স্পোর্টস পার্কে বল হাতে একাই গুটিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকাকে। ৯ ওভারে ৩.৮৯ ইকোনমিতে ৩৫ রান দিয়ে উইকেট নিয়েছেন পাঁচটি। অনেকটা আড়ালে পড়ে যাওয়া তবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার, ৫৪ বলের মধ্যে তাসকিন ডট দিয়েছেন ইনিংস সর্বোচ্চ ৩৮ বল। উইকেট যেমন তুলেছেন, তেমনি ডট বল দিয়ে চাপেও রেখেছেন স্বাগতিক ব্যাটসম্যানদের।
ক্যারিয়ারের শুরুতে একেবারে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে তাসকিন নিয়েছিলেন পাঁচ উইকেট। মিরপুরে বৃষ্টির ঝাপটার সঙ্গে ভুলে যাওয়ার মতো এক ম্যাচে তাসকিনের কল্যাণে ভারতকে ১০৫ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা নিজেরা থেমেছেন ৫৮ রানে। ৪৬ ম্যাচ আর ৮ বছরের অপেক্ষা শেষে তাসকিনের পাঁচ উইকেট।
সূত্র: প্রথম আলো
E/N