বাংলাদেশে কিছুদিন আগে ঘুরে এলাম। দেশের অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছ। গ্রাম শহর সবজায়গায় উন্নয়নের ছোঁয়া।মৌলিক চাহিদা যেমন : অন্ন, বস্ত্রে আমরা আগেই এগিয়ে ছিলাম । নতুন করে শিক্ষা ও বাসস্থান যুক্ত হয়েছে। যেখানেই গিয়েছি অজস্র স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা চোখে পড়েছে। নতুন মহিলা মাদ্রাসার সংখ্যা বেশি। হয়তো করোনার ভীতি থেকে হতে পারে। দীর্ঘ মেয়াদি জাতির জন্য ভালো নয়। তারা মা হিসেবে সন্তানদের আধুনিকতা, বিজ্ঞান পৃথিবীর সাথে মানানসই শিক্ষা নাও দিতে পারে। বিদ্যুৎ এর উন্নতি অভাবণীয় লেগেছে। আগে গ্রামে গেলে, কতক্ষণ থাকবো সবাই বলত। আর এখন বিদ্যুৎ তো যায়না , আর কদাচিৎ গেলেও, সবাই বলে এখনই চলে আসবে।
প্রত্যেক গ্রামে টিন ও মাটির ঘর এর পরিবর্তে বিল্ডিং, কারো কারো আধুনিক বাড়ি দেখা গেছে। সব জায়গায় অর্থনীতির চাকা সচল হওয়ার দৃষ্টান্ত বিদ্যমান। বাংলাদেশের মানুষের কর্মক্ষমতা বিশ্বে প্রশংসিত । সবাই কিছু না কিছু করার চেষ্টা করে। উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার সর্বত্র চেষ্টা। সবচেয়ে বেশি অবাক হয়েছি, আমার এলাকা চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় এতো নবীণ উদ্যোক্তা দেখে| আবার তাদের প্রচারের জন্য রয়েছে স্থানীয় মিডিয়া।
সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ এর প্রয়োগ করে নিজেদের ভাগ্য উন্নয়ন এবং দেশের উন্নয়নে তারা সচেষ্ট। দু’চারজনের কথা না বললেই নয়। যেমন ইশা পিঠা ঘর এর ইরা খাঁন, পপুলার বিডিনিউজের এডিটর মনিরুজ্জামান বাবলু , ই-কমার্স ফ্লাটফর্ম এর সাইফুল ইসলাম সিফাত ও হাজীগঞ্জ ফোরামের শাকিল আহমেদ |
বন্ধু হাসান জাহিদ তুষারের আমন্ত্রণে যাওয়া হলো ভোলা ও পটুয়াখালি । সাগর আর নদী বেষ্টিত দুর্গম অঞ্চল।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বনির্ভর প্রকল্প এবং সবার জন্য ঘর এর প্রকল্প নিয়ে বাড়তি দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। প্রান্তিক অঞ্চলে সরকারের উন্নয়ন এর খোঁজ খবর নিচ্ছেন। স্বপ্নবাজ টিএনও মাশফাকুর রহমান পুরো রাঙ্গাবালীর মানুষের জীবন পাল্টিয়ে দিয়েছেন শতভাগ ঘর ও বিদ্যুৎ নিশ্চিত করে।
রাজনীতিবিদের মধ্যে হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তির মাননীয় এমপি মহোদয় মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তমের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে দেখলাম তার আসনের প্রতিটি গ্রাম এবং কাজ এর অগাধ তথ্য রাখেন। এই বয়সেও প্রতিটি কল ধরেন , WhatsApp গ্রুপ করে এলাকা তদারকি করেন। নতুন প্রজন্মের রাজনীতিবিদরা তাঁর কাছে কিছু শিখতে পারেন।

চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল তাঁর নিজ কর্মে তরুণদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। বিশেষ করে করোনা কালে অবদান মনে রাখার মতো। মেহেদী হাসান রাব্বি ছাত্রলীগ করেন। কিন্তু নিজের টাকায় সমাজ সেবামূলক কাজ করে, তরুণদের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন।
ব্রিটেন ফেরত উদ্যোক্তা সাব্বির হোসাইন জয় এবং আবু ইব্রাহিম রাজীব চর কুকুরি মুকরিতে রেস্টুরেন্ট এবং থাকার জায়গার ব্যবস্থা করে নতুন ট্যুরিস্টদের আকৃষ্ট করছেন। অচিরেই ওই এলাকা বাংলাদেশের অন্যতম টুরিস্ট স্পট হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। হাবিব উল্লাহ ছাত্রবস্থায় সাভারে লেদার ফ্যাক্টরি করেছেন। অচিরেই তার প্রোডাক্ট বিদেশে রপ্তানি করার স্বপ্ন দেখে। রাজীব শাহ, ঢাকার মিরপুর এ থাকেন। নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে BBA & MBA করেছেন । ভালো বেতনে চাকরি করতে পারতেন। তা না করে , সমাজ শুদ্ধ করার পেশায় নেমেছেন। ড্রাগ আড্ডিক্টদের সেবা দিয়ে সুস্থ করেন। এই ধরণের মহৎ কাজে সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত।
ঘটনা ক্রমে পরিচয় হলেও , ইতোমধ্যে তাঁদের ভক্ত হয়ে গেছি। আমন্ত্রণে তাঁদের সেন্টার এ গিয়ে দেখে এসেছি, কিভাবে মানুষকে হতাশা থেকে আশার আলো দেখাচ্ছেন মেহেদী হাসান ফিরোজ, শামসুজ্জামানকে দেখলাম মানুষের স্বাস্থ্য ও কৃষি বিষয়ক নতুন আইডিয়া নিয়ে কাজ করতে।
নবীণ চেয়ারম্যান ইউসুফ প্রধানিয়া সুমন চেয়ারম্যান হওয়ার আগেই নিজ উদ্যোগে করোনার আক্রান্তদের সেবা করেছেন , মেডিকেল ক্যাম্প করেছেন।
আমার আরেক বন্ধু মোহাম্মদ হোসেন খোকন দরিদ্র মেধাবীদের বৃত্তি দিয়ে যাচ্ছেন। প্রত্যেকটি থানায় এরকম ৫০ জন থাকলে এলাকা উন্নয়ন হতে বাধ্য। আমাদের এলাকায় আরো অনেকে আছেন যাদের মেধা, অর্থে , শ্রমে সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছে। যারা পরবর্তীতে MP , মন্ত্রী কিংবা দেশের নেতৃত্ব দিতে চান তাদের উচিত নতুন প্রজন্মের পাশে দাঁড়ানো। যেকোনো নির্বাচনে যতজন নোমিনেশন নিতে যান, তাদের অনেককেই পরবর্তী নির্বাচন এর নোমিনেশন এর পূর্ব পর্যন্ত দেখা যায়না- এটাই দুঃখজনক। প্রতেককটি এলাকায় এ রকম নতুন স্বপ্নবাজ সারথি সৃষ্টি হয়েছে।
যারা বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর কিংবা আমেরিকা নয় বাংলাদেশ হিসেবে চিনার জন্য সরকারের সাথে সমানতালে কাজ করছেন। সরকারের উচিত প্রত্যেক থানাতে একটা অফিস কিংবা হাব তৈরী করা। তাদের কে একটা ইকো সিস্টেম এর মধ্যে নিয়ে আসা। মানুষের সক্ষমতা বেড়েছে। গ্রামের সাধারণ পরিবারও এখন টিভি ,সোফা, ফার্নিচার কিনতে পারে। পরিবার কে নিয়ে দুই একদিন শপিং কিংবা বাইরে খেতে পারে। উন্নত বিশ্বে এগুলো ইকোনমিক ইমপ্রুভমেন্ট এর ইনডিকেট। কিছু লোকের অঢেল টাকা হয়েছে। উন্নয়ন এর ভাগ কেউ না কেউ পাবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যারা দেশের টাকা বিদেশে পাঠিয়ে দেয়, তারা সমাজের দুষ্ট-ক্ষত। এদের সমাজে সম্মান না দিয়ে বয়কট করা উচিত।
পরিবহন সেক্টরে রাজনৈতিক লোকজনের বিরক্তিকর চাঁদাবাজি দ্রব্য মুল্যের অন্যতম কারণ। সরকার এবং দলকে এই বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্তে আসতে হবে । পদ্মা ব্রীজ থেকে আসার সময় কেরানীগঞ্জ এ টোল ছাড়াও দুই তিন বার চাঁদা দিতে হয়। তেমনি দাউদকান্দির গৌরীপুরও দেখলাম। এই দৃশ্য সব জায়গায়।

সকল MP দের সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অচিরেই মিটিং করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। বাজার মনিটরিং এর দায়িত্ব উপজেলা চেয়ারম্যানদের দিলে, কিছু একটা কাজ করার সুযোগ পাবেন। শহরে মানুষের জীবন অনেক কষ্টের। তারপরও সবাই শহরেই থাকতে চায়। যৌক্তিক কারণও আছে। বড় প্রতিষ্ঠান এর হেড অফিস, ব্যাঙ্ক এর কর্পোরেট অফিস , নামকরা স্কুল ,কলেজ এবং হাসপাতাল এর শাখা বিভিন্ন জেলায় করার জন্য প্রণোদনা , ট্যাক্স সাবসিডি , ল্যান্ড দিতে পারে। অর্থনৈতিক জোনে এর মতো ঢাকার বাইরে কর্পোরেট অফিস জোন করলে ঢাকার উপর চাপ কমবে। উন্নত বিশ্বে একটি কথা আছে , একজন মানুষ আয় করে চারজনের ফ্যামিলি তার শ্রেণীমোতাবেক চালিয়ে যদি এক সপ্তাহের আয়ের টাকা সঞ্চয় করতে পারলে , ভালো শহর বলা যেতে পারে। সকল শ্রেণীকে সেটা দেওয়ার জন্য পরিকল্পনা করা উচিত। রাজনৈতিক লোকজনের ব্যানার অসম্ভব দৃষ্টিকটু লেগেছে। সকাল বিকাল পোস্ট আর দেখতে হবে বলে চোখ নামিয়ে রাখতাম। ঢাকা শহরের সকল নেতা , সাংবাদিক , মন্ত্রী সুশীল সমাজ এর লোকজন এর চোখে এগুলো পড়েনা দেখে অবাক হয়েছি। কেউ কেউ আবার বিশাল বিলবোর্ড করেছে।
বিশেষ করে সেচ্ছাসেবক লীগ এর কিছু নব্য নেতৃবৃন্দ। এটার সাথে তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন জড়িত। ১৬ ডিসেম্বর এর পোস্টের, ব্যানার, বিলবোর্ড ফেব্রুয়ারী ২২ তারিখ পর্যন্ত বিদ্যমান। সিটি কর্পোরেশন কিংবা পৌরসভা কি করে ? দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধির এটাও একটা কারণ। প্রবাসে শরীর থাকলেও মন পড়ে থাকে বাংলাদেশে। ভালো লাগে মানুষের উন্নতি , দেশের উন্নতি দেখলে। এই দেশটি বঙ্গবন্ধু স্বাধীন করে গেছেন। তাঁর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা অসম্ভব সাহস নিয়ে দেশকে সামনে নিয়ে যাচ্ছেন। ২০ কোটি মানুষকে সামলানোই কঠিন , উন্নতি তো অনেক দূর। কিন্তু তিনি অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। করোনা কালে আবার প্রমাণ হয়েছে। আওয়ামীলীগ ঘোর বিরোধী অনেককেই এখন প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করতে দেখি। যদিও নৌকায় ভোট দিতে তাদের কলিজা ব্যাথা হবে। আমরা অনেক সময় বলি ‘কানাডার সব জনগণকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিলে , শেখ হাসিনা হতেন বিশ্বের সেরা প্রধানমন্ত্রী ।’
সকলের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক। বাংলাদেশ আরো এগিয়ে যাক।
জালাল উদ্দিন রুমি, পেনসিলভানিয়া, যুক্তরাষ্ট্র। ২১/০৩/২০২২
Write to Moniruzzaman Bablu