শিক্ষক সংকট আমাদের দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই একটি সাধারণ সমস্যা। বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক আছে কী নেই, না থাকলে কবে নিয়োগ হবে, এ নিয়ে কর্তৃপক্ষের খুব একটা মাথাব্যথা থাকে না। শিক্ষার মান বৃদ্ধির জন্য যতগুলো শর্ত প্রযোজ্য, মানসম্মত শিক্ষক সেগুলোর মধ্যে প্রধান। তাই, সরকারি কিংবা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয়সংখ্যক শিক্ষক থাকা একান্ত জরুরি। আমাদের দেশে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা নিতান্তই কম, শেষ হিসাব অনুযায়ী ৬৮৩টি। এগুলোতেও রয়েছে শিক্ষক সংকট। এগুলোর শিক্ষকের সংকট কাটাতে ২০১৮ সালের ৯ নভেম্বর সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে ২০২০ সালের ২৯ ডিসেম্বর ২ হাজার ১৫৫ জনকে সহকারী শিক্ষক হিসাবে নিয়োগের সুপারিশ করে ফল প্রকাশ করা হয়। এরপর পুলিশ ভেরিফিকেশন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে ৩০ জানুয়ারি ২ হাজার ৬৫ জনকে পদায়ন করা হয়েছে। কিন্তু এ পদায়ন হয়েছে এলোমেলোভাবে-যেসব বিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষক প্রয়োজন ছিল, সেসব বিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষকদের পদায়ন করা হয়নি। শহর এবং ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে এমন এলাকার স্কুলগুলোতে পদের অতিরিক্ত শিক্ষক পদায়ন করা হয়েছে। অথচ বদলি ও পদায়ন নীতিমালায় নতুন নিয়োগকৃতদের প্রথমে উপজেলার স্কুলে পদায়নের কথা বলা আছে।
কিন্তু নতুন শিক্ষকদের রাজধানীর সরকারি প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন জেলা সদরের স্কুলে পদায়ন দেওয়া হয়েছে। এর পেছনে স্বজনপ্রীতি ও ঘুস লেনদেনের অভিযোগ করেছেন অনেকে।
শহর এলাকার বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের অভিযোগ, যেসব স্কুলে শিক্ষক প্রয়োজন নেই, সেগুলোতে নতুন শিক্ষকদের পদায়ন করা হয়েছে। আর যেখানে শিক্ষক সংকট রয়েছে, সেখানে পর্যাপ্ত শিক্ষক দেওয়া হয়নি। কয়েক মাস আগে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের কাছ থেকে সারা দেশের হাইস্কুলগুলো থেকে শূন্যপদের তালিকা নিলেও পদায়নে সে তালিকার তোয়াক্কা করেননি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। মন্ত্রণালয়ের ইচ্ছামাফিক পদায়নে শিক্ষক সংকটে থাকা সরকারি স্কুলগুলোর শিক্ষার মান ধরে রাখা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। অপরদিকে যেসব প্রতিষ্ঠানে নতুন শিক্ষকদের পদায়ন দেওয়া হয়েছে, ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর আগের শিক্ষকরা বদলি আতঙ্কে ভুগছেন। তারা বলছেন, অতিরিক্ত শিক্ষক পদায়ন দেওয়ায় বেতনভাতা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হবে। নতুন শিক্ষকদের নতুন করে পদায়ন দিয়ে সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে বলেও কেউ কেউ মনে করছেন। বিষয়টিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে।
সূত্র: যুগান্তর
E/N