POPULAR BD NEWS
Popular BD News Logo

মন্দির হামলায় গ্রেফতারকৃত আসামীদের পরিবারের মানববন্ধন

পপুলার বিডিনিউজ রিপোর্ট | প্রকাশিত: মার্চ ২, ২০২২ | সময়: ৫:৫২ অপরাহ্ণ

কেউ স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী, কেউ দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ী, কেউ করতেন সামান্য চাকরি এমন অনেকেই এখন কারাগারে বন্দি। তাদের পরিবারের অনেকেই দাবী করছেন কারাগারে থাকা কেউ কেউ নিরপরাধ।

২ মার্চ বুধবার সকালে আটক আসামীদের মুক্তির দাবীতে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অংশ নেয়া কারাগারে থাকা আসামীদের পরিবারের নারী-পুরুষ।

কুমিল্লায় ধর্মগ্রন্থ কোরআন অবমাননাকে কেন্দ্র করে গত ১৩ অক্টোবর হাজীগঞ্জে পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় দশটি মামলা দায়ের করা হয়। দশ মামলা হাজীগঞ্জ উপজেলার দেড়শতাধিক আসামীকে গ্রেফতার করে পুলিশ, ডিবি ও সিআইডি।

মানববন্ধনে আসা পরিবারগুলো আর্তনাদ তুলে ধরে কেউ কেউ স্বামী, সন্তান কিংবা ভাইয়ের মুক্তি চেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
তাদের কান্না আর আকুতিতে সেখানে এক বেদনাঘন আবহ তৈরি হয়, ভারি হয়ে উঠে পরিবেশ।

পারভিন বেগম নামে পঞ্চশউর্ধো এক নারী বলেন, ‘আমার ২ ছেলে ইব্রাহিম ও গোলাম রাব্বী এবার এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলো। তারা জেলে থাকায় পরীক্ষা দিতে পারেনি। আমি আমার নির্দোশ ছেলেদের মুক্তি চাই। আমার ছেলেদের আমার বুকে ফিরিয়ে দেন।

ফাতেমা-তুজ-জোহরা নামে একজন বলেন, একটি পরিবারের কর্মজীবী মানুষটি যদি ৫ মাস জেলে থাকে তাহলে সেই পরিবারের মানুষগুলো কি খেয়ে বাঁচে। আমরা খুবই মানবেতর জীবন যাপন করছি। দয়া করে আমাদের নিরীহ স্বামী-ভাইদের ছেড়ে দেওয়া হোক।

স্থানীয় একজন মুক্তিযোদ্ধা বলেন, তারা অপরাধী করে থাকেন তাহলে তাদের আইনের মাধ্যমে বিচার করা হোক। কিন্তু, এভাবে মাসের পর মাস বিনাবিচারে জেলে রাখবে- এটি মেনে নেয়া যায় না।

তিনি আরো বলেন, ৫ মাস হয়ে গেছে, অথচ এখনো মামলায় চার্জশীট দেয়া হয়নি। চার্জশীট সম্পন্ন হলে মহামান্য আদালতের রায়ে নির্দোশ প্রমানিত হয়ে অনেকেই ছাড়া পাবেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, মন্দীর-পূজা মন্ডপে যারা হামলা করেছে তাদের শাস্তি আমরাও চাই। কিন্তু যারা নিরাপরাধ তাদেরকে কেন আটক রাখা হয়েছে। পুলিশ শুধুমাত্র সিসিটিভির ফুটেজের ছবি দেখাতে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং অভিযুক্তদের চিনিয়ে দেওয়ার কথা বলে থানায় নিয়ে যায়। অথচ ৫ মাস হয়ে গেলেও তাদের ছাড়া হয়নি। উল্টো তাদের বিরুদ্ধে ৪/৫টি করে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে।

গেল বছরের ১৩ অক্টোবর কুমিল্লায় মন্দিরে পবিত্র কুরআন অবমাননার প্রতিবাদে হাজীগঞ্জে পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনা ঘটে। ওইদিন উপজেলায় মোট ১২টি পূজামণ্ডপ ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের সাথে সংঘর্ষ হয়। গুলিতে নিহত হয় ৪ জন।

জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সোহেল মাহমুদ পপুলার বিডিনিউজকে বলেন, মন্দিরে হামলার ঘটনায় জেলায় ১১ টি মামলা হয়। একটি ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৫নং গুপ্টি ইউনিয়নে পূজা মন্ডপের গেইট ভাংচুর করে। সেই মামলায় চার্জশীট দেয়া হয়ে গেছে।
হাজীগঞ্জ উপজেলায় ১৩ অক্টোবরের ঘটনায় দশটি মামলা ও তিনটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়। সবগুলো তদন্ত প্রতিবেদন প্রায় চূড়ান্ত হলেও দশটি মামলায় চার্জশীট দেয়া হয়নি। কবে নাগাদ মামলাগুলোর চার্জশিট দেয়া হবে।

তবে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রথমে সিসি ফুটেজ দেখে আটক করা হয়। পরে আটককৃতদের দেয়া তথ্যনুযায়ী অন্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পপুলার বিডিনিউজ | বস্তুনিষ্ঠতা প্রকাশে দুরন্ত
কার্যালয়: কেনাকাটা মার্কেট, ৪র্থ তলা, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।
নিউজ ও বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৬-৪৬৯৫০৫ | ইমেইল: newspopular2020@gmail.com

© 2026 পপুলার বিডিনিউজ — অনুমতি ছাড়া লেখা/ছবি/ভিডিও ব্যবহার বেআইনি
প্রিন্ট করুন