নানাভাবে আশ্বস্ত করার পরও স্পিডবোটের চালক বেশি দূর এগোতে রাজি হলেন না। সতর্ক করে বললেন, সামনে এগোলেই বিপদ হতে পারে। তাঁর সতর্কবাণী মাথায় নিয়েই দৃষ্টিসীমা আড়াল হওয়ার আগে গুনে দেখা গেল ৬৭টি ড্রেজার। কিছু ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে, আর কিছু বসিয়ে রাখা হয়েছে। বালুবোঝাইয়ের পর বাল্কহেডগুলো নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা করছে।
স্পিডবোটের চালক বললেন, জায়গাটি নিরাপদ নয়। এখানে অচেনা কেউ এসে ছবি তুলতে গেলে বালু ব্যবসায়ীদের লাঠিয়ালেরা স্পিডবোট নিয়ে তাড়া করে। মুঠোফোন, ক্যামেরা কেড়ে রাখে। মারধরও করতে পারে।
জায়গাটি চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন থেকে মেঘনা নদী পেরিয়ে পদ্মার পেটে, রাজরাজেশ্বর এলাকার ডুবোচরে। প্রায় আট বছর ধরে চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনার ডুবোচর থেকে আইনকানুনের তোয়াক্কা না করে বালু তুলছেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. সেলিম খান। দুই শতাধিক ড্রেজার দিয়ে ২৪ ঘণ্টা ধরে এ কাজ করে চলেছেন তাঁর লোকেরা।
পরিবেশ অধিদপ্তর ও মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এভাবে বালু তোলার কারণে চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধের কয়েকটি স্থান দেবে গেছে। ভেঙে পড়ছে নদীর তীরও। ব্যাপকভাবে ঝুঁকির মুখে পড়েছে জাতীয় মাছ ইলিশের প্রজনন।
চাঁদপুর জেলার সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, জনস্বার্থে নৌপথ সচল করার কথা বলে সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বালু তুলছেন সেলিম খান। বর্তমানে ছোট ও বড় প্রতিটি ড্রেজার দিয়ে দিনে ২০ থেকে ৪০ হাজার ঘনফুট বালু ও মাটি তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রেজারে ২০ হাজার ঘনফুট তোলা হলে ২০০ ড্রেজারে দিনে বালু উঠছে ৪০ লাখ ঘনফুট। মাসে তোলা হচ্ছে ১২ কোটি আর বছরে ১৪৪ কোটি ঘনফুট বালু।
ড্রেজার ও বালুর ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, পদ্মা ও মেঘনা নদী থেকে তোলা বালু বর্তমানে প্রতি ঘনফুট বিক্রি হচ্ছে আড়াই থেকে তিন টাকা। আড়াই টাকা হিসাবে দুই নদী থেকে দিনে এক কোটি টাকার বালু বিক্রি হচ্ছে। এ হিসাবে মাসে বালু বিক্রি হচ্ছে ৩০ কোটি টাকার। বছরে এই টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৬০ কোটিতে। ২০১৫ সাল থেকে এই টাকার একটি কানাকড়িও সরকারের ঘরে যাচ্ছে না। গত আট বছরে কমবেশি ২ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা সেলিম খানের পকেটে ঢুকেছে।
সূত্র: প্রথম আলো
E/N