আমি যখন ঢাকায় ছিলাম, প্রায়ই পুরান ঢাকায় এক বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে যেতাম। ড্রইংরুমে বসে যখন চা খেতাম, তখন মাঝে মাঝে একটা দৃশ্য দেখতাম। বন্ধুর দুই ছেলে। একজন খুব হৃষ্টপুষ্ট, বলশালী। অন্যজন একেবারেই হালকা-পাতলা, লিকলিকে চেহারার।
এই দুই ছেলের মধ্যে মাঝে মধ্যে মারামারি লাগত। বড় ছেলে তার ছোট ভাইকে ধরে খুব পেটাত। ছোট ছেলে মার খেত আর বলত, ‘আরেকটা দিয়ে দেখ’। বড় ভাই আরেকবার মারত। ছোট ভাই বলত, ‘আরেকবার দিয়ে দেখ’।
তারপর বড় ভাই মার বন্ধ করলে ছোট ভাই বলত, ‘যা, এবারের মতো তোরে ছেড়ে দিলাম’। প্রায় ৫০/৬০ বছর আগের এই ঘটনাটি মনে পড়ল ইউক্রেনে পশ্চিমা শক্তির হাঁকডাক দেখে।
রাশিয়া এত সম্মিলিত শক্তির বিরুদ্ধে কোনো জবাব দিচ্ছে না। চুপচাপ। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন কয়েকবারই বলেছেন, ‘আমি ইউক্রেন আক্রমণ করতে চাই না। ইউক্রেনের সীমান্তে রুশ সৈন্য সমাবেশের উদ্দেশ্য ইউক্রেনকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা শক্তি যাতে রাশিয়া আক্রমণের জন্য ন্যাটো এবং তার আণবিক ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করতে না পারে’।
রাশিয়া চায় ইউক্রেন সমস্যার সমাধান, প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে পশ্চিমা শক্তির বৈঠক এবং সেই বৈঠকে রাশিয়াকে এই নিশ্চয়তা দেওয়া যে, তারা রাশিয়ার এই সাবেক ভূখণ্ডে খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে সামরিক শক্তির সমাবেশ ঘটাবে না। পশ্চিমা শক্তি প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছে, তবে এই নিশ্চয়তা দিচ্ছে না। রাশিয়াও তাই ইউক্রেন সীমান্ত থেকে সৈন্য প্রত্যাহার না করে ইউক্রেনে ঢুকে পড়েছে।
সূত্র: যুগান্তর
E/N